সাদ্দাম হোসেন. বরিশালে তিনদিন ব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলের জন্য ল্যাপটপ ও প্রজেক্টর ফ্রি সার্ভিসিং মেলা। মেলার উদ্বোধনীয় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম ইমামুল হক গতকাল মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মুখে এস এইচ টাওয়ার ভবনের সামনে বরিশাল শীর্ষবিন্দু কম্পিউটার সিস্টেম এর আয়োজনে ২৪,২৫,ও ২৬, তিনদিন ব্যাপী ফ্রি সার্ভিসিং মেলার উদ্বোধন করেন। মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম ইমামুল হক ও বিশেষ অতিথি রাহাত হোসাইন ফয়সাল, চেয়ারম্যান কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ,বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং শীর্ষবিন্দু কম্পিউটার সিস্টেম এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মোঃ এনামুল হক খাঁন সহ উপস্থিত ছিলেন আরো, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। উদ্বোধন অনুষ্ঠানের শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আয়োজিত ফ্রি সার্ভিসিং মেলায় অংশ নেয়া ষ্টল পরিদর্শন করেন আয়োজকদের নিয়ে।
Post Top Ad
বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন কলেজের ছাত্রীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগে ছাত্রলীগ নেত্রীকে গণধোলাই, বহিস্কারের দাবিতে সড়ক অবরোধ
বরিশাল প্রতিনিধি . বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন কলেজের ছাত্রীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগে কলেজের বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রী নিবাসে কথিত ছাত্রলীগ নেত্রীকে গণধোলাই দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্রীরা। পাশাপাশি তার কক্ষের আসবাবপত্রও পুড়িয়ে দিয়েছে তারা।
রোববার সন্ধ্যায় ছাত্রী নিবাসের ২নম্বর ভবনে এ ঘটনা ঘটে। সাধারণ ছাত্রীরা ছাত্রী নিবাসের সামনের ব্যস্ততম সড়ক অবরোধ বিক্ষোভ করে।পরবর্তীতে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ছাত্রীদের কয়েকজন জানিয়েছে- গণধোলাইর শিকার ছাত্রলীগ নেত্রী ফারজানা আক্তার ঝুমুর বিএম কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্রী। খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে- ঝুমুর দীর্ঘদিন যাবৎ কলেজের বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রীনিবাসে থাকার পাশাপাশি হলের আবাসিক ছাত্রীদের নানা ভাবে হয়রানি ও উত্ত্যক্ত করত। নানা অপকর্মে ছাত্রীদের ডাকত সে। তার ডাকে কেউ অপকর্মে অংশগ্রহণ না করলে মারধর থেকে শুরু করে নানা নির্যাতন করত এই ছাত্রলীগ নেত্রী। এই ঘটনার জেরে হলের আবাসিক ছাত্রীরা জোটবদ্ধ হয়ে বিএম কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর একটি স্মারকলিপিও প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে বলা হয়- ছাত্রীনিবাসের আবাসিক ছাত্রী ও ছাত্রলীগ নেত্রী ফারজানা দীর্ঘদিন যাবৎ সাধারণ ছাত্রীদের নানা অনৈতিক কর্মকান্ড করার জন্য চাপ প্রয়োগ করত। আর তার কথা না শুনলেই মারধর থেকে শুরু করে নানা অত্যাচার করে থাকে। এছাড়া ঝুমুর ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ছাত্রলীগের নাম বিক্রি করে সে ছাত্রীনিবাসে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা করছে বলেও উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে সম্প্রতি বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রীনিবাসের ২ নম্বর ভবনের ঐশী নামে এক আবাসিক ছাত্রী ঝুমুরের কথা না শোনায় তাকে ঘুমন্ত অবস্থায় বেধড়ক মারধর করা হয়। পরবর্তীতে ঐশীকে ছাত্রী নিবাস থেকে বের করে দেয়া হয়। ১৯ মার্চ ২নম্বর ভবনের অপর আবাসিক ছাত্রী শারমিনকেও বেধড়ক মারধর করে ঝুমুর। সর্বশেষ ২০ এপ্রিল জান্নাত ও ইভা শিকদার নামে দুই ছাত্রীকে মারধরের হুমকি দেয় সে। বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রী নিবাসের ২ নম্বর ভবনের আবাসিক ছাত্রী রহিমা আফরোজ ইভা জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ রাজনৈতিক দোহাই দিয়ে ঝুমুর অস্বাভাবিক পথে চলছে। সে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত। আর তার কথা মতো কেউ না চললেই তার নির্যাতন করে সে। জান্নাতুল ফেরদৌস নামে আরেক ছাত্রী জানান, ‘ঝুমুরের বিষয়ে একাধিক প্রভাবশালী নেতাদের জানানো হয়েছে। তবে ঝুমুরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তারাও ব্যর্থ হয়েছে।ছাত্রী নিবাস সূত্রে জানা গেছে- স্মারকলিপি দেয়ার বিষয়টি ঝুমুর টের পাওয়ায় সে স্মারকলিপি দেয়া ছাত্রীদের চড় থাপ্পর দেয়া শুরু করার একপর্যায়ে সাধারণ ছাত্রীরা পুনরায় জোটবদ্ধ হয়ে ঝুমুরকে গণধোলাই দেয়। এর পাশাপাশি ঝুমুরের রুমে থাকা আসবাবপত্র মূল সড়কে এনে পুড়ে ফেলে। এসময় বেশ কিছুক্ষণ সড়কে যান চলাচলও বন্ধ ছিল।এই বিষয়ে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজের উপাধ্যক্ষ স্বপন কুমার পাল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে বলে জানান। তবে কলেজের অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান সিকদার ঢাকায় রয়েছেন জানিয়ে ছাত্রীনিবাসে উপাধ্যক্ষসহ অন্য শিক্ষকদের পাঠানো হয়েছে বলে জানান। বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার সহকারি কমিশনার শাহনাজ পারভীন বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।পুলিশ আহতের ঘটনায় ৬৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা
বায়ান্নোর বাংলা ডেস্ক . পুলিশেল উপর হামলা এবং সরকারি কাজে বাঁধা প্রদানের অভিযোগ এনে বাসদ বরিশাল জেলার আহবায়ক এবং সদস্য সচিবসহ নামধারী ৬ ও অজ্ঞাত ৬০ জনসহ ৬৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহষ্পতিবার (১৯ এপ্রিল) দিবাগত রাতে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের এসআই নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে এ মামলাটি (মামলা নম্বর ৪৮/১৮) দায়ের করেন। নামধারী আসামীদের মধ্যে বৃহষ্পতিবার দুপুরে আটক ৬ জন হলো, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) বরিশাল জেলা শাখার আহবায়ক প্রকৌশলী ইমরান হাবিব রুম্মন, সদস্য সচিব ডা. মনিষা চক্রবর্তী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বরিশাল জেলা শাখার অর্থ সম্পাদক নাসরিন আক্তার টুম্পা, জেলা শ্রমিক ফ্রন্টের অর্থ সম্পাদক মিঠুন চক্রবর্তী, সদস্য জাকির হোসেন ও নূর ইসলাম।বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মোঃ আওলাদ হোসেন জানান, আটক ৬ জনকে মামলায় নামধারী ও অজ্ঞাত আরো ৫০/৬০ জনকে আসামী করা হয়েছে। মামলায় জননিরাপত্তা বিঘ্ন করা, পুলিশেল উপর হামলা এবং সরকারি কাজে বাঁধা প্রদানের অভিযোগ আনা হয়েছে। উল্লেখ্য, ব্যাটারি চালিত রিক্সার উচ্ছেদ বন্ধ করা ও লাইসেন্স প্রদানের দাবীতে বৃহস্পতিবার সকালে নগরের অশ্বিনী কুমার হলের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করে ব্যাটারি রিকশা শ্রমিক-মালিক সংগ্রাম কমিটি। যে কর্মসূচিতে একাত্বতা প্রকাশ করে বাসদ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা।পরবর্তীতে তারা নগরে ভূখা মিছিল বের করে নগর ভবনে মেয়র বরাবর স্মারকলিপি দেয়। থানা পুলিশ জানায়, সেখান থেকে ফেরার পথে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনে ফজলুল হক এভিনিউ সড়কে অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের সরাতে গেলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং ঘটনাস্থল থেকে ৬ জনকে আটক করে। এসময় সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতয়ালি) শাহনাজ পারভীন, কোতয়ালী ওসি শাহ মো. আওলাদ হোসেন, সেকেন্ড অফিসার উপ-পরিদর্শক সত্য রঞ্জন খাসকেল, উপ-পরিদর্শক নজরুল ইসলাম, কনস্টেবল শারমিন আক্তার, ইতি, সাদিয়া ও সুরমাসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়। এদিকে আন্দোলনকারীরা জানান, পুলিশের আকস্মিক লাঠিচার্জে তাদের বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী আহত হয়েছে।

