বায়ান্নোর বাংলা ডেস্ক. ভেনিস খ্যাত সিটি
হিসেবে সুপরিচিত বরিশাল নগরী আজ জরাজীর্ণ অবস্থা। নগরীর প্রতিটি সড়ক বলতে গেলে চলাচলের অযোগ্য। ধুলাবালি পূর্ণ সড়কের পাশাপাশি ময়লা-আবর্জনা সহ ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশা। একটু বৃষ্টিতেই পানি জমছে রাস্তায়। প্রধান সড়কগুলোর উপরে
পড়ে রয়েছে ময়লার স্তুপ। দুর্গন্ধে সড়ক দিয়ে চলাচলই দ্বায়।ফুটপাত অবৈধ দখলদারদের কবলে। রাতে পর্যাপ্ত সড়ক
বাতির অভাব। ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার দৌরাত্মে মুখ থুবড়ে
পড়েছে ট্রাফিক ব্যবস্থা। এমতাবস্থায় নগরবাসী
প্রতিক্ষার প্রহর গুনছে তাদের নতুন মেয়রের জন্য। তাদের প্রত্যাশা নতুন মেয়র দায়িত্ব নিয়ে নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি নগরীর
সেই পুরাতন যৌলুশ ফিরিয়ে আনবেন।গড়বেন আধুনিক নগরী।এদিকে, নগরবাসীর পাশাপাশি সদ্য বিজয়ী মেয়র সেরনিয়াবাত
সাদিক আবদুল্লাহ দুইদিন পরই দায়িত্ব নিচ্ছেন। দায়িত্ব বুঝে নিয়েই তিনি খুব দ্রুত নগরবাসীর সেবায় কাজ শুরু করবেন এমন আশা নগরবাসির।নির্বাচনের দিন রাতে নিজের জয় নিশ্চিত জানার পর তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করে জানিয়েছিলেন,
নগরবাসির চাওয়াকে প্রধান্য দিয়ে তিনি গড়েতুলবেন মেঘাসিটি।নগরবাসীর দেয়া তথ্য মতে, ২০০৮ সালে সওকত হোসেন
হিরন নির্বাচিত হবার পর তিনি স্ব-উদ্যোগে এই নগরীকে পরিচ্ছন্ন করে সাজিয়ে তোলেন। নগরীকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেন অনন্য এক নগরী হিসেবে। এনে দিয়েছিলেন ভেনিস নগরীর খেতাব। এছাড়াও নগরীর প্রতিটি
সড়ক সংস্কারের পাশাপাশি সড়কগুলোকে প্রশস্থ করার কাজও করা হয় তার সময়কালে। পাশাপাশি বিসিসির পরিচ্ছন্ন কর্মীদের মাধ্যমে বাসায় বাসায় গিয়ে প্রতিদিন ময়লা-আবর্জনা
তুলে নিয়ে আসা শুরু করা হয় শওকত হোসেন হিরন
মেয়র থাকাকালীন সময় থেকেই। নগরীর ধূলিকণা নিয়ন্ত্রণে
রাতে নগরীর প্রধান সড়কগুলো পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের দিয়ে ঝাড়ু দেয়ার কাজ শুরু করা হয়। নগরবাসীর পাশাপাশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে নদী তীরবর্তী এলাকাগুলো সৌন্দর্যমন্ডিত
করা হয়। বঙ্গবন্ধু উদ্যান সহ নদীর ধার দিয়ে পায়ে হাটা রাস্তা নির্মাণ
করা হয়। এর সবই হয়েছে তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে।প্রাপ্ত তথ্য মতে, সওকত হোসেন হিরন মেয়র
থাকাকালীন নগরীর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের
কাজ করা হয়েছে বা চলমান ছিল।তবে ২০১৩ সালের নির্বাচনে
তিনি পরাজিত হওয়ায় নগরীর সকল উন্নয়ন থমকে যায়। ২০০৮ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত হওয়া উন্নয়নের চিহ্নগুলোও ধীরে ধীরে নষ্ট হতে থাকে। পর্যটন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত কীর্তনখোলা নদীর তীর,গ্রিন সিটি পার্ক সহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র গুলো। নগরীর প্রায় প্রতিটি রাস্তা পরিকল্পনার অভাবে আজ জরাজীর্ণ ও খানাখন্দে পূর্ণ। নগরীর বাস টার্মিনালসহ অলিগলির রাস্তাগুলো এখন প্রায় চলাচলের অযোগ্য। ভেনিস খ্যাত নগরী আজ ধূলার শহর। একটু বৃষ্টিতেই পানি
জমে শহরের প্রধান সড়কসহ অলিগলির রাস্তাগুলোতে।তবে সদ্য বিদায়ী মেয়রের অভিযোগ ছিল, তিনি সরকারের
সহযোগীতার অভাবে ইচ্ছা থাকা সত্বেও কাজ করতে পারেননি।সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের রয়েছে
নিজস্ব জনবলসহ পরিচ্ছন্নতা কর্মী। তাদেরকে কাজে লাগাতে
সরকারের সহযোগীতার প্রশ্নই আসে না। জনদুর্ভোগ লাঘব করতে
প্রয়োজন ছিল মেয়রের নিজস্ব উদ্যোগ। আর সেই উদ্যোগেরই অভাব
ছিল সদ্য বিদায়ী মেয়রের।চৌমাথা এলাকার বাসিন্দা
সজিব বলেন, দীর্ঘ প্রায় ৫ বছর ধরে বাজারের প্রবেশদ্বারে,শহীদ আলমগীর ছাত্রবাসের সামনে ময়লা আবর্জনার স্তুব,প্রতিদিন হাজার যাতায়াত করে। দুগ্ধে নাক চেপে চলাচল করতে হয়।এদিকে, ব্যস্ততম এলাকার সড়ক সহ ওয়ার্ড পর্যায়ের সড়ক গুলো খানাখন্দে ভরা। দীর্ঘদিন এই রাস্তাগুলো সংস্কার না করায় এখন সেই রাস্তাগুলো নগরবাসীর দুর্ভোগের
অন্যতম প্রধান কারণ। মহাসীন মার্কেট,বাজার রোড,চকবাজার,চৌমাথা, হাসপাতাল রোড, বিশেষ করে নগরভবন সহ আশপাশের জনবহুল এলাকাগুলো আজ অবৈধ ফুটপাত দখলদারদের কবলে। এদের কারণে আজ সাধারণ নগরবাসীর পায়ে হাটা পথ খুঁজে পাওয়াই দ্বায়।অন্যদিকে, নগরীতে অনিয়ন্ত্রিত হারে বাড়ছে ব্যাটারি চালিত
অটোরিকশা। এছাড়া রাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকার সড়কগুলোতে নেই পর্যপ্ত সড়ক
বাতি। বিদ্যুতের পোলগুলোতে একবার বাল্ব কেটে গেলে তা লাগাতে মাসের
পর মাস পর হয়ে যায়। ফলে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন নগরবাসী।বটতলা হাতেম আলী কলেজ ছাত্রাবাস,বেগম সুফিয়া
কামাল ছাত্রীনিবাসের উত্তর পাশের সড়ক, পোর্ট রোড সড়কসহ
নগরীর প্রায় প্রতিটি এলাকার প্রধান সড়ক দখল করে ময়লার স্তুপ করে ফেলে রাখা হয়েছে। এতে করে নগরবাসীর যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দুর্গন্ধে চলাচলই দ্বায়। কাজি পাড়া সিএন্ড বি
রোড এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, দিন-রাত ময়লার স্তুপ করে ফেলে রাখা হচ্ছে। ফলে এই এলাকা দিয়ে যাতায়াত করতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীসহ রাস্তাটি দিয়ে
যাতায়াতকারীদের। গত ৫ বছরে নগরী ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। নগরবাসীর অভিযোগ, বৃষ্টি মৌসুমে সুষ্ঠু ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবেই
এই জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে।পর্যায়ক্রমে নগরীর
উন্নয়নগুলো নষ্ট হবার পাশাপাশি দুর্ভোগ বৃদ্ধির কারণে নগরবাসী অতিষ্ঠ। আর এই দুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে এবারের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নগরবাসী
তাদের নতুন নগর পিতা নির্বাচন করেছেন। তাদের একটাই চাওয়া
নতুন নগর পিতা কোন প্রতিশ্রুতি না দিলেও নগরবাসির
চাওয়া পাওয়াকে তিনি প্রধান্য দিয়ে কাজ করবেন। নগরবাসীকে তাদের বর্তমান দুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণ দেবেন এটাই চাওয়া।
Post Top Ad
বরিশালে ডিম ও পেয়াজের দাম বৃদ্ধি, সবজির বাজার স্থিতিশীল।
বায়ান্নোর বাংলা ডেস্ক. সপ্তাহের ব্যবধানে নগরীর বাজারগুলোতে
ডিমের দাম হালিতে প্রায় ৫-৭টাকা বেড়েছে। তবে বেশির ভাগ সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। সেই সঙ্গে কমে যাওয়া পেঁয়াজের দামও বেড়েছে। শুক্রবার নগরীর চৌমাথা বাজার, বটতলা বাজার,সাগরদী বাজার, নতুন বাজার,বাংলা বাজার, এবং নথুল্লাবাত সহ বিভিন্ন
বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন,মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার কারনে ডিমের চাহিদার তুলনায় কম থাকায় এমনটি
হতে পারে।তা ছাড়া ফার্মে ডিমের সরবরাহ কম থাকার
কারনে দাম বাড়তে পারে।ফার্মের ডিমের হালি ৩৫-৩৭ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।যা গত সপ্তাহে আগে বিক্রি হয়েছে
২৮-৩০টাকা হালিতে।দেশী মুরগীর ডিমও ৫ টাকা বেড়ে ৫০-৫৫ টাকা হালিতে বিক্রি হচ্ছে।৭টাকা হালিতে বেড়ে হাসের ডিম
৫০-৫৫ টাকায়।জি। হঠাৎ করে ২ সপ্তাহ ধরে ডিমের দাম
বাড়ার বিষয়ে চৌমাথা বাজারের ডিম ব্যবসায়ী সালাম সরদার বলেন, ফার্মে ডিমের সরবরাহ কিছুটা
কম।তাছাড়া নিষেধাজ্ঞা কারনে মাছের
সরবারাহ না থাকায় ডিমের উপর প্রভাব পড়েছে। এজন্যই হয়তো চাহিদার চেয়ে সরবরাহ কম।আর সরবারাহ কমার কারণে দাম
বাড়তি। এই ব্যবসায়ী আরও বলেন,
ডিমের দাম ২ সপ্তাহে
ধরে বাড়তি , আরও কমবে না বাড়বে ১সপ্তাহ
গেলে বোঝা যাবে। অন্যদিকে, অধিকাংশ সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক
রয়েছে। পটল, ঝিঙা, ধুন্দল, চিচিঙ্গা, বেগুন, ঢেঁড়স, করলাসহ প্রায় সব সবজিই বাজারে
ভরপুর। যে কারণে সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে।বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকা কেজি। যা গত সপ্তাহে ছিল ১০০ টাকা
কেজি। পেয়াজের বাজারে কেজি প্রতি
৫ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে বটতলা বাজারের এক মুদি ব্যবসায়ী বলেন, আড়তে পেয়াজের দাম বেড়ে গেছে। তাই আমাদেরও বাড়তি দামে পেয়াজ
বিক্রি করতে হচ্ছে। গত সপ্তাহে আমদানি করা পেয়াজ ২৫ টাকা দেশি পেয়াজ ৪০ টাকা কেজিদরে বিক্রি করেছি
আজ তা ৩০ টাকায় দেশি পেয়াজ ৫০ টাকায় কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। এদিকে বাজার ও মানভেদে প্রতি
কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা যা আগের সপ্তাহে ছিল ৫০-৬০ টাকা। গত সপ্তাহে ৪০-৫০ টাকা কেজি
দরে বিক্রি হওয়া চিচিঙ্গার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বেগুন আগের সপ্তাহের মতোই ৩০-৪০
টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ৩৫-৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া পটল ও ঢেঁড়সের দাম
কমে ৩০-৪০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।করলা আগের সপ্তাহের মতোই ৪০-৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহের মতো এখনো
বাজারে সব থেকে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে গাজর,১০০ টাকা,শিম ৯০ টমেটো ১০০ টাকায় প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে। সবজির দামে মিশ্র প্রবণতা থাকলেও শাকের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আগের সপ্তাহের মতো লাল শাক, পাট শাক, কলমি শাক ১০-১৫ টাকা আটি বিক্রি
হচ্ছে। আর পুঁইশাক ও লাউ শাক বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০ টাকা ।গত সপ্তাহে ২০০-২১০ টাকা কেজি
দরে বিক্রি হওয়া কক মুরগির দাম কিছুটা কমে ২১০-২২০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে দাম অপরিবর্তিত রয়েছে সাদা
ব্রয়লার মুরগির। আগের সপ্তাহের মতো ব্রয়লার মুরগি ১১৫-১২৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।গরুর মাংস প্রতিকেজি ৫০০ টাকা,খাসির মাংস ৭৫০ টাকা কেজি দরে
বিক্রি হচ্ছে। নতুন বাজার ব্যবসায়ী রাজু মিরা বলেন, কাঁচামালের দাম নির্ভর করে
আড়তের ওপর। আড়তে মাল বেশি আসলে দাম স্বাভাবিক ভাবেই কম থাকে। আবার আড়তে মালের ঘাটতি থাকলে
দাম বেড়ে যায়। এখন আড়তে গেলেই পছন্দ মতো যেকোনো সবজি আনা যাচ্ছে না। যে কারণে আমরাও কিছুটা বেশি
দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
অভিভাবকহীন বরিশাল নগরীতে বেশিরভাগ সড়ক খানা- খন্দে ভরা
শহিদুল ইসলাম . নগরীর প্রধান সড়কগুলোর বেশির
ভাগেই রয়েছে ছোট-বড় গর্ত। তবে ওয়ার্ড পর্যায়ের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর অবস্থা বেশি বেহাল। এ কারনে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে স্বাভাবিক
যান চলাচলে। সড়কের এই বেহাল দশার সাথে বাড়তি ভোগান্তির কারন হিসাবে দেখছে অভিভাবকহীন নগরভবন।বিসিসির সকল সেবা থেকেই বঞ্চিত
এমন অভিযোগ নগরবাসির। তবে নগরীর সড়কগুলোর রক্ষণাবেক্ষণকারী সংস্থা বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের
দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের সংস্কার কাজ বন্ধ রয়েছে অর্থ অভাবে। নগরীর ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক প্রসঙ্গে
জানতে চাইলে, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান
প্রকৌশলী নগরীর অধিকাংশ সড়কের এমন অবস্থা স্বীকার করে বলেন, যেখানে কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছে না সেখানে সড়কের
সংস্কার করবে কিভাবে। এখন আর নতুন মেয়র মহাদয় না বসা পর্যন্ত নগরীর ক্ষতিগস্ত সড়কের
সংস্কার করা সম্বান নয়।তিনি আরও জানান,বিসিসির ইঞ্জিনিয়ারেরা কতগুলো ক্ষতিগ্রস্থ সড়ক রয়েছে তার উপরএকটা তালিকা তৈরি করছে। এটা নিয়ে নবনির্বাচিত মেয়র
মহোদয় সাথে বসে সিন্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। এদিকে গতকাল নগরীর বিভিন্ন
সড়ক সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, নাজিরেরপুল থেকে আমানাতগঞ্জ শেষ মাথা,সদর রোড,রুপাতলী বাসস্ট্যান্ড সড়ক,চৌমাথা থেকে সোনামিয়ার পুল,পোর্ট রোড,তাছাড়া ওয়ার্ড প্রর্যায়ের অভ্যন্তরীন
সড়কের তো আরও বেহাল দশা সড়কজুড়ে পুরোটায় খানাখন্দে ভরা। বিভিন্ন ওয়ার্ডের স্থানীয় লোকজন
অভিযোগ করে বলেন, প্রায় ৩-৪ বছরে ও সড়ক সংস্কার
করা হয়নি।রুইয়া এলাকার মামুন মীরা জানান, নবগ্রাম সড়কটির অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। এই সড়কের বেশির ভাগ অংশে কার্পেটিং
উঠে গেছে। কোন কোন জায়গায় কংক্রিট উঠে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এই সড়কটি ৩ বছর আগে একবার সংস্কার
করেছিল সিটি কর্পোরেশন এর পর আর সংস্কার করা হয় নি। নাজিরের পুল থেকে আমানাতগঞ্জের
সিটি কর্পোরেশনের এরিয়া পর্যন্ত সড়কটিও অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। এ সড়কেও রয়েছে অসংখ্য গর্ত। স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করে বলেন, অল্প বৃষ্টি হলেই এ সড়কটি তলিয়ে
যায় পানির নিচে।সড়ক জুড়ে বিভিন্ন অংশেও খানাখন্দ রয়েছে। সরেজমিনে ঘুরে ঘুরে দেখা যায় বড় আকারের গর্ত। এসময় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দিয়ে
যান চলাচলে সৃষ্ট জটিলতার কারণে যানজটও তৈরি হয়।এছাড়া রুপাতলীর বাসটারমিনালের সড়কটিও জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। এমনিতেই সড়কটি সংকীর্ণ হয়ে যান চলাচলে আছে নানা প্রতিবন্ধকতা। তার উপর কিছু কিছু জায়গায় সৃষ্ট
ছোট-বড় গর্ত যান চলাচলের গতি টেনে ধরছে। সড়কটির অবস্থাও বেশ নাজুক। বিশাল অংশ জুড়েই সড়কটিতে নানা
খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। এখানে ভাঙাচোরা আর গর্তে ভরা রাস্তার কারণে এ সড়কে যানবাহনের
চাকা থেমে যাচ্ছে বারবার। পোর্টরোডের রাস্তা বেশিরভাগ
অংশে সলিং উঠে গেছে এরপরও চলতে বাধ্য হচ্ছে
যানবাহন। তবে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, এসব সড়কের বিভিন্ন অংশেও ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া তিতলির প্রভাবে টানা
দুই তিনের বৃষ্টি পাতের কারনে নগরীর সড়ক গুলো
খানা খন্দ বেহাল দশায় পরিনত হয়েছে। এখনো অনেক সড়কের গর্তগুলোতে পানি জমে রয়েছে।বরিশালে মহিলা দলের বিক্ষোভ মিছিল পুলিশের বাঁধায় পন্ড
বরিশালে আওয়ামী লীগের পাঁচশ’ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা *অর্ধশতাধিক পরিবারকে উৎখাত
শামীম আহমেদ . সংখ্যালঘু সম্প্রদায় অধ্যুষিত জেলার উজিরপুর উপজেলার শিবপুর
ও পশ্চিম সাতলা গ্রামের পুরুষরা কৃষি কাজ ও মাছ চাষ করে তা বিক্রির মাধ্যমে জীবিকা
নির্বাহ করে আসছেন। ওই এলাকার বাসিন্দাদের পূর্ব পুরুষের আমল থেকে ভোগদখলীয় সম্পত্তির
ওপর লোলুপ দৃষ্টি পরেছে এক প্রভাবশালীর। সূত্রমতে, ইতোমধ্যে প্রতারক চক্রের মাধ্যমে ভূয়া কাগজপত্র তৈরি করে
ওইসব এলাকার কৃষকদের সহয় সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে দীর্ঘদিন থেকে মিথ্যে মামলা দায়ের
করে হয়রানী করে আসছেন ওই প্রভাবশালী। ইতোমধ্যে লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ প্রায়
অর্ধশতাধিক নিরিহ পরিবারের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের সহয় সম্পত্তি দখল করে গ্রাম থেকে
উৎখাত করা হয়েছে। স্থানীয়
অসংখ্য আওয়ামী লীগ নেতাসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবারের সম্পত্তি দখলে ব্যর্থ হয়ে প্রভাবশালী
ওই ব্যক্তি তার সহযোগিদের দিয়ে দেশের বিভিন্ন থানায় অসংখ্য মামলা দায়ের করে হয়রানী
করে আসছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সকল অভিযোগের তীর এক সময়ের জাহাজের ক্যাপ্টেন পদে চাকরি করে
আলাদিনের চেরাগ পেয়ে একটি বেসরকারী ব্যাংকের মালিকসহ বর্তমানে শিল্পপতি দাবিদার বানারীপাড়া
উপজেলার সলিয়াবাকপুর গ্রামের বাসিন্দা এম মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুলের বিরুদ্ধে। ভূক্তভোগীরা
অভিযোগ করেন, হঠাৎ করে বিশাল বিত্তবৈভবের মালিক বনে যাওয়া এম মোয়াজ্জেম হোসেন
গত দুই মাস ধরে আওয়ামী লীগ নেতা দাবি করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর)
আসন থেকে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে তোরন নির্মান, ব্যাপক
পোষ্টারিং ও ফেস্টুন সাটিয়ে নিজেকে জানান দিচ্ছেন। এমনকি
তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ত্রী আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি’র ছবি সংবলিত ব্যানার বানিয়ে
হাতির পিঠে বেঁধে গণসংযোগের নামে জাতীয় নেতাদের অবমূল্যায়ন করে চলেছেন। আর এতে
মোটা অংকের টাকা পেয়ে উৎসাহ যোগাচ্ছেন
স্থানীয় সুবিধাবাদী কতিপয় নেতা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বসন্তের
কোকিলের ন্যায় নির্বাচনী মাঠে এসে আপত্তিকর কর্মকান্ডের মাধ্যমে ক্যাপ্টেন মোয়াজ্জেম
হোসেনের উত্তপ্ত করে তোলার বিষয়টি ভালো চোখে দেখছেন না খোঁদ দক্ষিণাঞ্চলের আওয়ামী লীগের
একমাত্র অভিভাবকখ্যাত জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি। এজন্য
তিনি কয়েকজন নেতাকে শ্বাসিয়েছেন বলেও সূত্রগুলো দাবি করেছেন। সরেজমিনে
শিবপুর ও পশ্চিম সাতলা গ্রাম ঘুরে একসময় জাহাজের ক্যাপ্টেন হিসেবে চাকরি করা এম মোয়াজ্জেম
হোসেন বাবুলের নানা অপকর্মের বিস্তার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি
সময়ে তার (মোয়াজ্জেম) ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনী তান্ডব চালিয়ে সংখ্যালঘুসহ প্রায় অর্ধশতাধিক
পরিবারের সহয় সম্পত্তি দখল করে নিয়েছে। তান্ডবের একপর্যায়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন ওইসব পরিবারের
সদস্যরা। শিবপুর গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের নিপেন বাড়ৈ জানান, তাদের
বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্বেও ক্যাপ্টেন মোয়াজ্জেম তার সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে তাদের
দুই একর জমি জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে। জালজালিয়াতির মাধ্যমে কাগজপত্র বানিয়ে তাদের আরও ৭৮ শতক জমির
উপর মিথ্যা মামলা দিয়ে জবরদখল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বরিশাল
জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মাসুম বিল্লাহ বলেন, ২০১০
সাল থেকে ক্যাপ্টেন এম মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল আমাদের ক্রয়কৃত ও পৈত্রিক ওয়ারিশসূত্রের
১২ একর সম্পত্তি দখলের পায়তারা শুরু করেন। বেশ কয়েকবার ক্যাপ্টেন মোয়াজ্জেম তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে
আমাদের জমি দখলের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। এতে ক্ষুব্ধ
হয়ে মোয়াজ্জেম আমাকে (মাসুম) সহ অন্যান্য ওয়ারিশদের সম্পত্তি দখল করার জন্য বিভিন্ন
থানায় মোট সাতটি মিথ্যা ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করে হয়রানি করছে। তিনি
আরও জানান, ১৯৩৮ সাল থেকে তারা সম্পত্তির বৈধ মালিক হিসেবে ভোগদখল করে
আসলেও ক্যাপ্টেন মোয়াজ্জেম তা ভূয়া ডিক্রির মাধ্যমে ক্রয়সূত্রে মালিকানা দাবি করেন। তার দাবি
অনুযায়ী ১৯৬৯ সালের ৩৮৫ নং দেওয়ানী মোকদ্দমার ডিক্রির সাসির্ংয়ে কোন কেচ নেই বলেও আদালত
থেকে তাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে। তার পরেও অবৈধ টাকার বিনিময়ে মোয়াজ্জেম হোসেন তার সন্ত্রাসী
বাহিনী নিয়ে তাদের সহয় সম্পত্তি দখল করার জন্য হামলার পর এবার একের পর এক মিথ্যে মামলা
দিয়ে হয়রানী শুরু করেছেন। সাতলা ইউনিয়নের ৩নং (শিবপুর) ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ
সম্পাদক ও সাবেক সেনা সদস্য কাঞ্চন হাওলাদার বলেন, জাহাজের
ক্যাপ্টেন এম মোয়াজ্জেম হোসেন ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা দীর্ঘদিন থেকে আমার ভোগ দখলীয়
জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। তার অবৈধ দখলে বাঁধা প্রদান করায় সে আমার বিরুদ্ধে একাধিক
মামলা দায়ের করে হয়রানি করে আসছে। শিবপুর গ্রামের মরিয়ম বেগম ও আলেয়া বেগম বলেন, ক্যাপ্টেন
মোয়াজ্জেম ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীরা আমাদের ক্রয়কৃত এবং পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা
চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে একাধিক মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছে। মিথ্যে
মামলায় হয়রানীর শিকার হয়ে এখন আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি। ওয়ার্ড
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহিম হাওলাদার বলেন, পৈত্রিক
ও ক্রয়কৃত তিন একর সম্পত্তি দখলের জন্য ভূয়া ডিক্রি করে ক্যাপ্টেন মোয়াজ্জেম ইতোমধ্যে
আমার বিরুদ্ধে পাঁচটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। পশ্চিম
সাতলা গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা যুবলীগের সদস্য ইকবাল বালী জানান, তার ক্রয়কৃত
দশ একর ৬৮ শতক সম্পত্তি দখল করার জন্য মোয়াজ্জেম তার বিরুদ্ধে পাঁচটি মিথ্যা মামলা
দিয়ে হয়রানি করে আসছে। এছাড়া তাকে হত্যার জন্য হুমকি অব্যাহত রাখায় তিনি (ইকবাল)
এখন মোয়াজ্জেম ও তার বাহিনীর হামলা এবং মামলায় গ্রেফতার আতংকে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। শিবপুর
গ্রামের বজলুর রহমান, ফজলুল হক ও আজিজুল হক জানান, তাদের
ক্রয়কৃত ও পৈত্রিক প্রায় তিন একর জমি দখল করার জন্য মোয়াজ্জেম তাদের বিরুদ্ধে একাধিক
মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছে। তাদের এখন সব সময় হামলা ও মামলার আতংকে দিন কাটাতে হচ্ছে। একই এলাকার
আওয়ামী লীগ নেতা শাজাহান বেপারী জানান, তিনিসহ তার অন্যান্য ভাইদের চার একর সম্পত্তি দখলের জন্য
দীর্ঘদিন থেকে মোয়াজ্জেম বিভিন্নভাবে পায়তারা চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে
তাদের বিরুদ্ধে উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসে ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে তিনটি মিথ্যা মামলা দায়ের
করা হয়েছে। ওই এলাকার ফরিদ শাহ জানান, তার নিজের
ক্রয়কৃত ও পৈত্রিক তিন একর সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে মোয়াজ্জেম তাদের
বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ তিনটি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছে। পশ্চিম
সাতলা গ্রামের বাসিন্দা ও আওয়ামী ওলামা লীগের প্রচার সম্পাদক মাওলানা মোঃ রুহুল আমীন
জানান, তার পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া চার একর সম্পত্তি দখল করার জন্য
মোয়াজ্জেম হোসেন তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ আটটি মামলা দায়ের করেছে। শিবপুর
গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান জানান, তার পৈত্রিক সম্পত্তিত্বে তিনি দুইবছর পূর্বে মুরগীর ফার্ম
নির্মান করায় ক্ষিপ্ত হয়ে মোয়াজ্জেম হোসেনের তার নামে একাধিক মিথ্যে মামলা দায়ের করেছে। মিথ্যে
মামলায় গ্রেফতার এড়াতে এখনও তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। একই গ্রামের
মৈজদ্দিন বেপারীর কন্যা বেগম বিবি বলেন, পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া তার এক একর সম্পত্তি দখল করে নিয়েছেন
ক্যাপ্টেন মোয়াজ্জেম। ভূক্তভোগীদের অভিযোগে জানা গেছে, পশ্চিম
সাতলা ও শিবপুর এলাকার প্রায় দুই হাজার একর জমির ওপর দীর্ঘদিন থেকে লোলুপ দৃষ্টি পরেছে
ক্যাপ্টেন মোয়াজ্জেম হোসেনের। ইতোমধ্যে ভূয়া ডিক্রির মাধ্যমে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে তিনি
অর্ধশতাধিক পরিবারের সম্পত্তি দখল করে তাদের উৎখাত করেছেন। এছাড়া পাঁচ শতাধিক পরিবারের সম্পত্তি দখল করার জন্য একের
পর এক মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানী করে আসছেন। পাশাপাশি মোয়াজ্জেম হোসেন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে শিবপুরের
সীমান্তবর্তী কান্দি এলাকার অসংখ্য পরিবারের সহয় সম্পত্তি দখল করে উচ্ছেদ করার অভিযোগ
রয়েছে। সূত্রে আরও জানা গেছে, ক্যাপ্টেন
মোয়াজ্জেম হোসেন বিভিন্ন সময় থানা পুলিশের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের মোটা অংকের টাকার
বিনিময়ে ম্যানেজ করে ভূক্তভোগীদের হুমকি প্রদর্শন করে আসছেন। ভূমিদস্যু
ক্যাপ্টেন মোয়াজ্জেমের হাত থেকে রেহাই পেতে ভূক্তভোগীরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ত্রী
আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ
কামনা করেছেন। গত ১৪ অক্টোবর উজিরপুর উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসে গিয়ে জানা
গেছে, ওইদিন সেটেলমেন্ট অফিসে প্রায় ৪০টি মামলার শুনানীর দিনধার্য্য
ছিলো। এরমধ্যে ৩৬টি মামলাই হচ্ছে ক্যাপ্টেন মোয়াজ্জেম হোসেন বনাম
শিবপুরবাসীর মধ্যে। এ ব্যাপারে উপজেলা সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা আব্দুস সালামের সাথে
যোগাযোগ করা হলে তিনি নিরিহ গ্রামবাসীকে মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানীর অভিযোগের সত্যতা
স্বীকার করে বলেন, আমি যতোদিন চেয়ারে আছি ততোদিন ক্যাপ্টেন মোয়াজ্জেম হোসেন
কেন যতো বড় প্রভাবশালীই হোকনা কেন আমাকে দিয়ে কেউ অবৈধ সুযোগ নিতে পারবেনা। তিনি
আরও বলেন, ১৪ অক্টোবরের প্রতিটি মামলার শুনানী ক্যাপ্টেন মোয়াজ্জেম
হোসেনের বিরুদ্ধে গেছে। অভিযুক্ত ক্যাপ্টেন এম মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুলের ব্যবহৃত মোবাইল
ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিফ না করায় কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মোয়াজ্জেম
হোসেনের ছোট ভাই মেহেদী হাসান সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য সংবাদকর্মীদের অনুরোধ করে
একসাথে বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছেন। সূত্রমতে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বানারীপাড়া থানা
পুলিশ উপজেলার ইলুহার গ্রামে অভিযান চালিয়ে জাল দলিল প্রস্তুতের মূলহোতা মুহুরী আব্দুল
মান্নান তালুকদারকে আটক করে। পরবর্তীতে তার দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী গোয়েন্দা পুলিশ
অভিযান চালিয়ে মান্নানের সহযোগী বাবুল চৌকিদার, শাহজাহান
হাওলাদার ও নজর আলী মৃধাকে আটক করে। আটককৃতদের কাছ থেকে পুলিশ বিপুল পরিমাণ ব্রিটিশ ও পাকিস্তান
আমল থেকে দলিল প্রস্তুতের স্টাম্প, বিভিন্ন অফিস-আদালতের স্টাম্প ও সিল, অসংখ্য
জাল দলিল, আদালতের রায়ের কপি, ডিক্রি, শত শত
ফলি কাগজ ও ভূয়া ওয়ারেন্টসহ অন্যান্য কাগজপত্র জব্দ করেন। আটককৃতরা
দীর্ঘদিন থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে জাল দলিল, ভূয়া
ডিক্রিসহ জজ কোর্ট, ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্ট, রেকর্ড
রুম, ভূমি অফিসের ভূয়া কাগজপত্র প্রস্তুত করে বিভিন্ন অপরাধমুলক
কর্মকান্ডের সহযোগিতা করে আসছিলো। ভূক্তভোগীরা জানান, ওই প্রতারক
চক্রের মাধ্যমেই ক্যাপ্টেন মোয়াজ্জেম হোসেন নিরিহ গ্রামবাসীর সহয় সম্পত্তি ভূয়া ডিক্রি
ও জালজালিয়াতির মাধ্যমে মালিকানা দাবি করে আসছে।
