আজ ভয়াল ২৫ মার্চ। জাতীয় গণহত্যা দিবস। গত বছরের ১১ মার্চ জাতীয় সংসদে ২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবস পালনের প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হওয়ার পর থেকেই দিনটি জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসাবে পালিত হয়ে আসছে। ১৯৭১ সালের এইদিনে বাঙালি জাতির জীবনে এক বিভিষিকাময় রাত নেমে আসে। মধ্যরাতে বর্বর পাকিস্তানী হানানদার বাহিনী কাপুরুষের মত তাদের পূর্ব পরিকল্পিত অপারেশন সার্চলাইটের নীলনকসা অনুযায়ী আন্দোলনরত বাঙালিদের কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার ঘৃণ্য লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। অনেকেই মনে করেন, ২৫ মার্চের গণহত্যা শুধু এক রাতের হত্যাকাণ্ডই ছিল না, এটা ছিল মূলত বিশ্ব সভ্যতার জন্য এক কলংকজনক জঘন্যতম গণহত্যার সূচনা মাত্র। অস্ট্রেলিয়ার সিডনি মর্নিং হেরাল্ড” পত্রিকার ভাষ্য মতে শুধুমাত্র পঁচিশে মার্চ রাতেই বাংলাদেশে প্রায় এক লক্ষ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল, যা গণহত্যার ইতিহাসে এক জঘন্যতম ভয়াবহ ঘটনা। পরবর্তী নয় মাসে একটি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার লক্ষ্যে ৩০ লক্ষ নিরপরাধ নারী-পুরুষ-শিশুকে হত্যার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা পূর্ণতা দিয়েছিল সেই বর্বর ইতিহাসকে। মার্কিন সাংবাদিক রবার্ট পেইন ২৫ মার্চের রাত সম্পর্কে লিখেছেন, ঢাকায় ঘটনার শুরু মাত্র হয়েছিল। সমস্ত পূর্ব পাকিস্তান জুড়ে সৈন্যরা বাড়িয়ে চললো মৃতের সংখ্যা। জ্বালাতে শুরু করলো ঘর-বাড়ি, দোকান-পাট লুট আর ধ্বংস তাদের নেশায় পরিণত হলো যেন। রাস্তায় রাস্তায় পড়ে থাকা মৃতদেহগুলো কাক- শেয়ালের খাবারে পরিণত হলো। বাংলাদেশ হয়ে উঠলো শকুন তাড়িত শ্মশান ভূমি। এই গণহত্যার স্বীকৃতি খোদ পাকিস্তান সরকার প্রকাশিত দলিলেও রয়েছে। পূর্ব পাকিস্তনের সঙ্কট সম্পর্কে যে শ্বেতপত্র পাকিস্তান সরকার মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রকাশ করেছিল, তাতে বলা হয়: ১৯৭১ সালের পয়লা মার্চ থেকে ২৫ মার্চ রাত পর্যন্ত এক লাখেরও বেশী মানুষের জীবননাশ হয়েছিল। ২৫ মার্চ দুপুরের পর থেকেই ঢাকাসহ সারাদেশে থমথমে অবস্থা বিরাজ করতে থাকে। এদিন সকাল থেকেই সেনা কর্মকর্তাদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মত। হেলিকপ্টার যোগে তারা দেশের বিভিন্ন সেনানিবাস পরিদর্শন করে বিকেলের মধ্যে ঢাকা সেনানিবাসে ফিরে আসে। ঢাকার ইপিআর সদর দপ্তর পিলখানাতে অবস্থানরত ২২তম বালুচ রেজিমেন্টকে পিলখানার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিতে দেখা যায়। এদিন মধ্যরাতে পিলখানা, রাজারবাগ, নীলক্ষেত আক্রমণ করে পাকিস্তানি সেনারা। হানাদার বাহিনী ট্যাঙ্ক ও মর্টারের মাধ্যমে নীলক্ষেতসহ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা দখল নেয়। সেনাবাহিনীর মেশিনগানের গুলিতে, ট্যাঙ্ক-মর্টারের গোলায় ও আগুনের লেলিহান শিখায় নগরীর রাত হয়ে উঠে বিভীষিকাময়। পাকিস্তানি হায়েনাদের কাছ থেকে রক্ষা পায়নি রোকেয়া হলের ছাত্রীরাও। ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব ও জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা, অধ্যাপক সন্তোষ ভট্টাচার্য, ড. মনিরুজ্জামানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ৯ জন শিক্ষককে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়। ঢাবির জগন্নাথ হলে চলে নৃশংসতম হত্যার সবচেয়ে বড় ঘটনাটি। এখানে হত্যাযজ্ঞ চলে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান অপারেশন সার্চ লাইট পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সকল পদক্ষেপ চুড়ান্ত করে গোপনে ঢাকা ত্যাগ করে করাচি চলে যান। সেনা অভিযানের শুরুতেই হানাদার বাহিনী বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের আগে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং শেষ শত্রু বিদায় না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাবার আহ্বান জানান।বঙ্গবন্ধুর এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাঙালি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র লড়াই শেষে একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর পূর্ণ বিজয় অর্জন করে। বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের।
Post Top Ad
২৫ মার্চ: আজ জাতীয় গণহত্যা দিবস
আজ ভয়াল ২৫ মার্চ। জাতীয় গণহত্যা দিবস। গত বছরের ১১ মার্চ জাতীয় সংসদে ২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবস পালনের প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হওয়ার পর থেকেই দিনটি জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসাবে পালিত হয়ে আসছে। ১৯৭১ সালের এইদিনে বাঙালি জাতির জীবনে এক বিভিষিকাময় রাত নেমে আসে। মধ্যরাতে বর্বর পাকিস্তানী হানানদার বাহিনী কাপুরুষের মত তাদের পূর্ব পরিকল্পিত অপারেশন সার্চলাইটের নীলনকসা অনুযায়ী আন্দোলনরত বাঙালিদের কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার ঘৃণ্য লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। অনেকেই মনে করেন, ২৫ মার্চের গণহত্যা শুধু এক রাতের হত্যাকাণ্ডই ছিল না, এটা ছিল মূলত বিশ্ব সভ্যতার জন্য এক কলংকজনক জঘন্যতম গণহত্যার সূচনা মাত্র। অস্ট্রেলিয়ার সিডনি মর্নিং হেরাল্ড” পত্রিকার ভাষ্য মতে শুধুমাত্র পঁচিশে মার্চ রাতেই বাংলাদেশে প্রায় এক লক্ষ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল, যা গণহত্যার ইতিহাসে এক জঘন্যতম ভয়াবহ ঘটনা। পরবর্তী নয় মাসে একটি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার লক্ষ্যে ৩০ লক্ষ নিরপরাধ নারী-পুরুষ-শিশুকে হত্যার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা পূর্ণতা দিয়েছিল সেই বর্বর ইতিহাসকে। মার্কিন সাংবাদিক রবার্ট পেইন ২৫ মার্চের রাত সম্পর্কে লিখেছেন, ঢাকায় ঘটনার শুরু মাত্র হয়েছিল। সমস্ত পূর্ব পাকিস্তান জুড়ে সৈন্যরা বাড়িয়ে চললো মৃতের সংখ্যা। জ্বালাতে শুরু করলো ঘর-বাড়ি, দোকান-পাট লুট আর ধ্বংস তাদের নেশায় পরিণত হলো যেন। রাস্তায় রাস্তায় পড়ে থাকা মৃতদেহগুলো কাক- শেয়ালের খাবারে পরিণত হলো। বাংলাদেশ হয়ে উঠলো শকুন তাড়িত শ্মশান ভূমি। এই গণহত্যার স্বীকৃতি খোদ পাকিস্তান সরকার প্রকাশিত দলিলেও রয়েছে। পূর্ব পাকিস্তনের সঙ্কট সম্পর্কে যে শ্বেতপত্র পাকিস্তান সরকার মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রকাশ করেছিল, তাতে বলা হয়: ১৯৭১ সালের পয়লা মার্চ থেকে ২৫ মার্চ রাত পর্যন্ত এক লাখেরও বেশী মানুষের জীবননাশ হয়েছিল। ২৫ মার্চ দুপুরের পর থেকেই ঢাকাসহ সারাদেশে থমথমে অবস্থা বিরাজ করতে থাকে। এদিন সকাল থেকেই সেনা কর্মকর্তাদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মত। হেলিকপ্টার যোগে তারা দেশের বিভিন্ন সেনানিবাস পরিদর্শন করে বিকেলের মধ্যে ঢাকা সেনানিবাসে ফিরে আসে। ঢাকার ইপিআর সদর দপ্তর পিলখানাতে অবস্থানরত ২২তম বালুচ রেজিমেন্টকে পিলখানার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিতে দেখা যায়। এদিন মধ্যরাতে পিলখানা, রাজারবাগ, নীলক্ষেত আক্রমণ করে পাকিস্তানি সেনারা। হানাদার বাহিনী ট্যাঙ্ক ও মর্টারের মাধ্যমে নীলক্ষেতসহ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা দখল নেয়। সেনাবাহিনীর মেশিনগানের গুলিতে, ট্যাঙ্ক-মর্টারের গোলায় ও আগুনের লেলিহান শিখায় নগরীর রাত হয়ে উঠে বিভীষিকাময়। পাকিস্তানি হায়েনাদের কাছ থেকে রক্ষা পায়নি রোকেয়া হলের ছাত্রীরাও। ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব ও জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা, অধ্যাপক সন্তোষ ভট্টাচার্য, ড. মনিরুজ্জামানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ৯ জন শিক্ষককে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়। ঢাবির জগন্নাথ হলে চলে নৃশংসতম হত্যার সবচেয়ে বড় ঘটনাটি। এখানে হত্যাযজ্ঞ চলে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান অপারেশন সার্চ লাইট পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সকল পদক্ষেপ চুড়ান্ত করে গোপনে ঢাকা ত্যাগ করে করাচি চলে যান। সেনা অভিযানের শুরুতেই হানাদার বাহিনী বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের আগে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং শেষ শত্রু বিদায় না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাবার আহ্বান জানান।বঙ্গবন্ধুর এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাঙালি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র লড়াই শেষে একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর পূর্ণ বিজয় অর্জন করে। বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের।
সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় বরিশালে আরো ৫ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত
সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় বরিশালে আরো ৫ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত
বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি নিউজ এর ক্যামেরা পার্সন সুমন হাসানকে নির্যাতনকারী ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল বাশার আরো ৫ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। দুপুরে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।এ নিয়ে তিনবারে বরিশাল মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ওইটিমে থাকা ৮ সদস্য সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো।এরা হলো, ক্লোজড হওয়া ডিবি পুলিশের উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) আবুল বাশার, সহকারী উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) মো. আকতারুজ্জামান, স্বপন চন্দ্র দে, কনস্টাবল মাসুদুল হক (কং/৯৩৮), মো. আব্দুর রহিম (কং/৫৭৮), চৌধুরী রাসেল পারভেজ (কং/৬৬৮), মো. হাসান মাহমুদ (কং/৭০৭) ও কাজী সাইফুল ইসলাম (কং/৬৪৫)। এরআগে গতকাল ডিবি পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশানর (ডিসি ডিবি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করেছেন মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁইঞা। এরআগে এ পদে অতিরিক্ত
হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন ট্রাফিকের উপ-কমিশনার উত্তম কুমার পাল। গতকালই তাকে ডিবি’র অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে করে বরিশাল মেট্রোপলিটন
পুলিশের সহকারী কমিশনার (ডিবি) মোঃ নাসির উদ্দিন মল্লিক বলেন, সাংবাদিক সুমন হাসানকে নির্যাতনের ঘটনার পরপরই প্রথমে ১৪ মার্চ সাময়িক ভাবে বরখাস্ত হয় পুলিশ কনস্টেবল মাসুদুল হক। এরপরে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে ১৫ মার্চ আরো দু’জন অর্থাৎ আব্দুর রহিম ও চৌধুরী রাসেল পারভেজকে বরখাস্তের আদেশ দেয়া হয়।সর্বশেষ গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে ১৮ মার্চ ডিবি পুলিশের ওই টিমের নেতৃত্ব দেয়া এসআই আবুল বাশার এবং এএসআই আক্তার এবং স্বপন সহ ৫ জনকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয়। এদিকে সুমনকে নির্যাতনকারী ডিবি পুলিশের টিমের ওই আট সদস্যকে বহিস্কারের পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে আলাদা ভাবে কারন দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। নোটিশের জবাব পাওয়ার পরে স্ব স্ব অপরাধ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।উল্লেখ্য, গত ১৩ মার্চ দুপুরে অফিস থেকে বাসায় যাওয়ার পথে নিকটাত্মীয়কে গোয়েন্দা পুলিশের হয়রানি করার খবর পেয়ে নগরের বিউটি রোডে সুমন হাসান যান। ঘটনাচক্রে সেখানে থাকা পুলিশ সদস্যরা তার ওপর ক্ষিপ্ত হয় এবং প্রকাশ্যে সুমন হাসানকে পেটাতে পেটাতে গাড়িতে তোলে ডিবি পুলিশের সদস্যরা। পথিমধ্যে সুমনের ওপর অমানুসিক নির্যাতন ও ক্রসফায়ারের হুমকি দেয়া হয়।
মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে ৪৫ মন জাটকা জব্দ
মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে ৪৫ মন জাটকা জব্দ
বরিশালের হিজলা উপজেলা সংলগ্ন মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে ৪৫ মন জাটকা জব্দ ও একজনকে আটক করেছে নৌ-পুলিশ। সোমবার সকালে জব্দকৃত জাটকাগুলো বিভিন্ন এতিমখানা ও গরীব-দুস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এরআগে রোববার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্ডন্ত বরিশালের হিজলার বাউশিয়া সংলগ্ন মেঘনা নদীতে অভিযান চালায় বরিশাল সদর নৌ থানা পুলিশ। পুলিশের অভিযান টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় আরোহন ও পরিবহন নিষিদ্ধ একটি ট্রলার বোঝাই ৪৫মন জাঁটকা সহ ইব্রাহিম বেপারীকে আটক করে নৌ পুলিশ।আটক ইব্রাহিম বেপারী বাউশিয়া এলাকার মৃত কাঞ্চন ব্যাপারীর ছেলে।বরিশাল নৌ পুলিশের পরিদর্শক আবু তাহের জানান, সকালে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
নাজমুল হুসেইনের ভ্রাম্যমান আদালত আটক ইব্রাহীমকে ৫ হাজার টাকা অর্থ দন্ড প্রদান করেন এবং জব্দকৃত ট্রলারটি নিলামে বিক্রির আদেশ দেন। একই সাথে জব্দকৃত জাঁটকা বিভিন্ন লিল্লাহ বোডিং, এতিমখানা এবং অসহায় দুঃস্থদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরন করা হয় বলে জানিয়েছেন বরিশাল নৌ পুলিশের পরিদর্শক আবু তাহের।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনে বরিশাল নগরের বর্জ্য অপসারণ বন্ধ
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনে বরিশাল নগরের বর্জ্য অপসারণ বন্ধ
বকেয়া বেতন-ভাতার দাবীতে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে টানা ১ মাস ধরে আন্দোলন কর্মসূচী পালন করে যাচ্ছে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ৩০ তম দিন সোমবার (১৯ মার্চ) আন্দোলনরতরা নগর ভবনের সকল শাখায় তালা ঝুলিয়ে কর্মবিরতি পালন করছেন।পাশাপাশি কর্মচারীদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা তাদের সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে রোববার থেকে বরিশাল নগরের সকল জায়গা থেকে বর্জ্য অপসারণ বন্ধ রয়েছে। নগরের বিভিন্ন সড়কের পাশে কর্পোরেশনের নির্ধারিত জায়গাগুলো আজ সোমবার ময়লার স্তুপে পরিনতো হয়েছে। আর এতে করে নগরবাসী ময়লা আর দুর্গন্ধের কারনে ব্যাপক বিড়াম্বনার মধ্যে দিন পাড় করছেন। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের শ্রমিক লীগের সভাপতি মোঃ শানু জোমাদ্দার বাংলানিউজকে জানান, মাসের পর মাস বেতন বকেয়া থাকায়, শ্রমিকদের বাকীর দোকানের তাগাদা, ঘর ভাড়ার তাগাদ, সন্তানের বিদ্যালয়ের বেতনের তাগাদসহ নানান কষ্টে রয়েছেন। অনেকে ভাড়া না দিতে পারায় তাদের ঘর থেকে ও নামিয়ে দিয়েছে বাড়ির মালিক। তিনি বলেন, শ্রমিকরা তাই বাধ্য হয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। এ কারনে ময়লা পরিষ্কার বন্ধ রয়েছে। এজন্য আমাদের কিছু করার এ মুহুর্তে নেই। এদিকে শ্রমিকরা ময়লা পরিষ্কার বন্ধ করে দিলেও পানি ও বিদ্যুৎসেবা এখনো পাচ্ছেন নগরবাসী।
তবে পূর্বের ঘোষনা অনুযায়ী ১৮ মার্চ থেকে এই সেবাও বন্ধ থাকার কথা ছিলো। আন্দোলনকারীদের অন্যতম নেতা সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা দীপক লাল মৃধা বলেন, ১৮ মার্চ থেকে কঠোর কর্মসূচী ঘোষনা করার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত করা হয়নি।তাই পানি, বিদ্যুৎ, নগর পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা সেবা বন্ধের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে শ্রমিকরা কাজে না গেলে সে ক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার নেই।কারণ তারা বেতন থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। উল্লেখ্য উল্লেখ্য গত ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বকেয়া বেতন ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকার জন্য কর্মবিরত, অবস্থান কর্মসূচী, মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে আসছে সিটি কর্পোরেশনের স্থায়ী ও দৈনিক মজুরী ভিত্তিক ২ হাজারের ওপর কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকরা। কিন্তু দফায় দফায় সমঝোতা বৈঠক হলেও এখন পর্যন্ত কোন সুরাহা হয়নি। তবে আন্দোলনকারীরা প্রথম থেকেই কর্মবিরতি পালন করলেও নগরবাসীর সুবিধার্থে পানি-বিদ্যুৎ সরবরাহ ও নগর পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করে আসছিলো। আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, বিসিসিতে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে ২ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী
রয়েছে। স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সব শেষ জানুয়ারী মাসে গত বছরের আগস্ট মাসের বেতন পেয়েছেন। সে হিসেবে এখন স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৬ মাসের বেতন বকেয়া। অপরদিকে দৈনন্দিন মজুরী ভিত্তিক কর্মচারীদের ৫ মাসের বেতন বকেয়া হয়েছে। পাশাপাশি
প্রভিডেন্টফান্ডের ২৩ মাসের অর্থ বরাদ্দ হয়ে ব্যাংকে যায়নি।