আগৈলঝাড়া উপজেলা হাসপাতাল রোগীদের ব্যবস্থাপত্র লেখার দায়িত্বে ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধি - ৫২র বাংলা - সংবাদ সবসময়

Recent Topic

Post Top Ad

আগৈলঝাড়া উপজেলা হাসপাতাল রোগীদের ব্যবস্থাপত্র লেখার দায়িত্বে ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধি



আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি . নিজ এলাকায় চিকিৎসাসেবা প্রদানের ঘোষণার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় প্রভাব বিস্তার করে জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের একমাত্র মেডিকেল অফিসার ডাঃ বখতিয়ার আল-মামুনের বিরুদ্ধে পুরো হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা জিম্মি করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ডাঃ বখতিয়ার আল-মামুনের কারণে হাসপাতালে আসা চিকিৎসকরা বেশীদিন স্থায়ী হতে পারছেন না। বর্তমানে বখতিয়ার আল-মামুন হাসপাতালের একমাত্র আবাসিক মেডিকেল অফিসার। তার ইচ্ছেমতো রোগী দেখার ফলে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার স্বাস্থ্যসেবা থেকে উপজেলার দুই লক্ষাধিক জনগন বঞ্ছিত হচ্ছেন। এছাড়া বখতিয়ার আল-মামুনের প্রভাব বিস্তারের কারণে অসহায় হয়ে পরেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ আলতাফ হোসেন। আগৈলঝাড়া উপজেলার পয়সারহাট বন্দরের টিন ব্যবসায়ী চাঁদত্রিশিরা গ্রামের মহসিন হোসেন খোকনের পুত্র ডাঃ বখতিয়ার আল-মামুন।সরেজমিনে সোমবার উপজেলা হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালের নিজের কক্ষে রোগী দেখছেন ডাঃ বখতিয়ার আল-মামুন। টেবিলের একপ্রান্তে বসে তিনি রোগীর কথা শুনছেন, টেবিলের অপরপ্রান্তে বসে রোগীর ব্যবস্থাপত্র লিখছেন ওষুধ কোম্পানীর একজন প্রতিনিধি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্যবস্থাপত্র লেখা ব্যক্তিটি অপসোনিন কোম্পানীর মেডিকেল প্রমোশন অফিসার অলক বিশ্বাস। তার ব্যবস্থাপত্র লেখা শেষ হলে তাতে শুধু স্বাক্ষর করছেন ডাঃ বখতিয়ার আল-মামুন।নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের কর্মরত একাধিক স্টাফ বলেন, ডাঃ বখতিয়ার আল-মামুন প্রতিদিন এভাবেই ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের দিয়ে ব্যবস্থাপত্র লেখাচ্ছেন। ব্যবস্থাপত্র লেখানো ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন, অপসোনিন কোম্পানীর অলক বিশ্বাস, জুলফার কোম্পানীর আনোয়ার হোসেন, ওরিয়ন কোম্পানীর আশ্রাফ আহম্মেদ এসিআই কোম্পানীর মজিবুর রহমান।সূত্রমতে, হাসপাতালে সুনামের সাথে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছিলেন ডাঃ সুবল কৃষ্ণ কুন্ডু ডাঃ মোহাম্মদ আলম মীর্জা। ডাঃ বখতিয়ার আল-মামুন তাদের তাড়াতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। একারণে ডাঃ মোহাম্মদ আলম মীর্জার সাথে বখতিয়ার আল-মামুনের সাথে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছিল। একপর্যায়ে তাদের তাড়িয়ে পুরো হাসপাতাল জিম্মি করে নেয় বখতিয়ার আল-মামুন। শামীমা রাজ্জাক নামের এক রোগী জানান, সোমবার বেলা এগারোটার দিকে হাসপাতালে ডাঃ বখতিয়ার আল-মামুনকে দেখাতে গেলে চিকিৎসক তার নির্ধারিত একশটাকা ফি রেখেছেন। তাকেও অন্যএকজনে ব্যবস্থাপত্র লিখে দিয়েছেন।আগৈলঝাড়া থানা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ভর্তি রোগীদের হাসপাতাল থেকে টাকার বিনিময়ে সার্টিফিকেট প্রদান করায় থানায় মিথ্যা মামলার প্রবনতা বেড়েছে। একারণে সত্য ঘটনা মিথ্যা, আর মিথ্যা ঘটনা সত্য হওয়ায় সার্টিফিকেট অনুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বাধ্য হচ্ছেন পুলিশ অফিসাররা। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন থানা ওসি আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা। ডাঃ বখতিয়ার আল-মামুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রোগীর চাঁপের কারণে অন্যলোক দিয়ে ওষুধের নাম লিখিয়ে তাতে তিনি নিজেই স্বাক্ষর করেন। এরমানে এই নয় যে, ওই ব্যবস্থাপত্রের দায় তার নয়। ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ আলতাফ হোসেন বলেন, ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের সপ্তাহের শনি, সোম বুধবার সকাল আটটা থেকে সাড়ে দশটা পর্যন্ত ডাক্তার ভিজিটের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়ের আগে পরে হাসপাতাল চত্বরে কোন কোম্পানীর লোক থাকার কথা নয়। অন্যকোন বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। ব্যাপারে বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন মোঃ মানোয়ার হোসেন বলেন, অভিযোগের তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।


No comments:

Post a Comment

Recent Movies

Post Top Ad