বায়ান্নোর বাংলা
ডেস্ক
. ঐতিহ্যে ভরা দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ পেয়ারা
সরবরাহ হয়ে
থাকে বরিশালের
পিরোজপুর জেলার
নেছারাবাদ উপজেলার আটঘর-কুড়িয়ানা, ঝালকাঠি
সদর উপজেলার
ভীমরুলি ও
বরিশালের বানারীপাড়ার
সদর উপজেলা
থেকে। নদীবেষ্টিত
এসব অঞ্চলের
একমাত্র যোগাযোগব্যবস্থা
খাল-নদীই।
তাই এসব
খাল কিংবা
নদীকে কেন্দ্র
করে আটঘর
ও ভীমরুলিতে
বছরের পর
বছর ধরে
গড়ে উঠেছে
ভাসমান হাট।
মৌসুম অনুযায়ী
মৌসুমি ফলের
কদরে এসব
হাট সবর্দাই
জমজমাট থাকছে,
রাজশাহীর মতো
আমের ফলন
না হলেও
লেবু, আমরার
মৌসুমের শেষের
দিকে শুরু
হয়ে গেছে,
পেয়ারার মৌসুম।
মৌসুমের শুরু
হতে না
হতেই এরই
মধ্যে কর্মব্যস্ততা
ও জমজমাট
ভাব শুরু
হয়ে গেছে
আটঘর ও
ভীমরুলির ভাসমান
পেয়ারারা বাজারকে
কেন্দ্র করে।
পিরোজপুরের আটঘরে সোমবার ও শুক্রবারকেন্দ্রিক
হাট বসলেও
ঝালকাঠির ভীমরুলিতে
প্রতিদিনই বসছে ভাসমান এ পেয়ারার
হাট। এ
হাটগুলোকে কেন্দ্র করে সূর্যোদয়ের আগে
থেকেই চাষিরা
পেয়ারার ক্ষেতে
যান এবং
গাছ থেকে
পেয়ারা সরবরাহ
করেন। পরে
ছোট ছোট
ডিঙি নৌকায়
করে তা
ক্ষেত থেকে
সরাসরি ভাসমান
হাটে নিয়ে
আসেন। হাটে
পাইকারদের ইঞ্জিনচালিত বড় নৌকা কিংবা
ট্রলারকে ঘিরে
কিংবা খাল
তীরবর্তী স্থানে
থাকা পাইকারদের
অবস্থানকে ঘিরে চাষিদের ফসলে ভড়া
নৌকার ভিড়
গড়ে ওঠে।
এসব নৌকায়
থাকা পেয়ারার
আকার ও
ধরণ দেখে
পাইকাররা দাম
হাঁকছেন আড়াইশ
থেকে সাড়ে
চারশ টাকা
পর্যন্ত প্রতি
মন পেয়ারার।
চাষির দাম
পাওয়াটা পেয়ারার
আকার-আকৃতির
ওপর নির্ভর
করলেও পুরো
বিষয়টাই পাইকারদের
নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে নৌ-পথে
যোগাযোগ ব্যবস্থাটা
থাকায় পেয়ারা
আনা-নেয়ার
কাজটি চাষির
খরচ খুব
কম হওয়া
এবং আটঘরের
হাটে নামে
মাত্র খাজনা
দিতে হলেও
ভীমরুলির হাটে
কোনো খাজনা
না থাকায়
বিবিধ খরচ
থেকে বেঁচে
যান চাষিরা।
আর এই
ভীমরুলি ও
আটঘরের হাটগুলো
থেকেই কেজিতে
কেজিতে পেয়ারা
বস্তায় ভড়ে
চলে যাচ্ছে
ফরিদপুর, ঢাকা,
বরিশাল, চট্টগ্রামসহ
দেশের বিভিন্ন
জেলা-উপজেলায়।
তবে এ
বছর বৃষ্টি
দেরিতে ও
কম হওয়ায়
পেয়ারার ফলন
ও উৎপাদনে
বিরূপ প্রভাব
পড়েছে বলে
জানিয়েছেন চাষিরা। আটঘর পেয়ারা হাটে
বিক্রি করতে
আসা সঞ্জয়
মন্ডল নামে
স্থানীয় এক
চাষি জানান,
মৌসুমের শুরু
হওয়ায় এখন
মন প্রতি
পেয়ারার দাম
ভালো রয়েছে।
সর্বনিম্ন আড়াইশ ও সর্বোচ্চ চারশ
টাকা পর্যন্ত
দর পাচ্ছেন।
তবে দিনে
যত যাচ্ছে
দর তত
নিচের দিকে
নেমে আসছে।
উৎপাদন বেড়ে
গেলে আগামী
১০ দিনের
মধ্যে পেয়ারার
দাম আরও
পড়ে যাবে।
যত আমদানি
বাড়বে পেয়ারার
দাম তত
কমবে। এদিকে
আটঘর ও
ভীমরুলির ভাসমান
পেয়ারার বাজার
ও বাজারকেন্দ্রিক
আশপাশের পেয়ারার
ক্ষেতকে কেন্দ্র
করে পুরো
এলাকায় চাষি-পাইকার শ্রমজীবী
মানুষদের পাশাপাশি
বর্তমান সময়ে
পর্যটকদের ভিড়ও বেড়েছে। পর্যটকদের ঘোরাঘুরির
জন্য নৌকার
পাশাপাশি ইঞ্জিনচালিত
ট্রলার পাওয়া
যায়। যার
কারণে এ
পন্থায় আয়
করছেন অনেকেই।
এছাড়া নিরাপত্তার
জন্য পর্যাপ্ত
পুলিশি নিরাপত্তার
ব্যবস্থাও থাকে। স্থানীয় বাসিন্দা সুরঞ্জিত
জানান, আগে
বাজারকেন্দ্রিক শুধু ক্রেতা ও বিক্রেতার
ভিড় ছিল।
তবে সময়ের
সাথে সাথে
এখন পর্যটকদের
ভিড়ও দিনে
দিনে বাড়ছে।
তবে শুক্র
ও শনিবার
ছুটির দিনে
শিক্ষার্থীসহ কর্মজীবী মানুষের ভিড় অনেকটাই
বেড়ে যায়।
এরফলে স্থানীয়ভাবে
অনেকেই ইঞ্জিনচালিত
নৌকা ভাড়ায়
খাটিয়ে কিংবা
হাটকেন্দ্রিক খাবারের দোকান দিয়েও ভালো
আয় করছেন।
ভীমরুলীতে ঘুরতে আসা ব্রজমোহন কলেজের
শিক্ষার্থী মাছুম বিল্লাহ বলেন, প্রাকৃতিক
সৌন্দর্যে ভরা এই নৌ-পথে
ঘুরতে হলে
বৈঠার নৌকাই
ভালো। যদিও
এ নৌকাগুলো
অনেক ছোট-দু-একজন
ছাড়া ওঠা
যায় না।
তবে গ্রুপ
বেঁধে সবাই
আসে বিধায়
বিকট শব্দ
সৃষ্টকারী ইঞ্জিন চালিত নৌকায় চলাচল
করতে হচ্ছে।
এদিক ফাল্গুনী
নামের এক
তরুণী জানালেন,
অনেক দূর
থেকে এসে
জানতে পারলেন
এখান থাকার
ব্যবস্থা নেই।
থাকতে হবে
স্বরুপকাঠী, ঝালকাঠি কিংবা বরিশাল সদরে
গিয়ে। এখানে
থাকতে পারলে
ঘোরাঘুরিটা আরো ভালো হতো। তবে
সম্প্রতি বখাটের
উৎপাতও বেড়েছে
বলে জানান
তিনি। যদিও
এসব বিষয়ে
ঝালকাঠির জেলা
প্রশাসক ও
জেলা পুলিশের
সুপার বেশ
কিছু পদক্ষেপ
হাতে নিয়েছে
বলে জানিয়েছেন
কীর্তিপাশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আব্দুস
শুক্কুর মোল্লা।
তিনি জানান,
ভাসমান পেয়ারার
হাটে এখন
পর্যটকের সংখ্যা
যে হারে
বাড়ছে, তাতে
এখানে বিশ্রামাগারের
প্রয়োজন দেখা
দিয়েছে। সে
বিষয়ে জেলা
প্রশাসক মহোদয়
পদক্ষেপ নেবেন
বলে জানিয়েছেন।
পাশাপাশি বখাটেদের
রোধে পুলিশের
পক্ষ থেকে
বিশেষ করে
বর্ষা মৌসুমে
নজরদারির ব্যবস্থা
করা হবে।
যাতে নিরাপদে
পর্যটকরা এ
অঞ্চলের সৌন্দর্য
উপভোগ করতে
পারেন। বরিশাল
বিভাগের পিরোজপুর
জেলার নেছারাবাদ
উপজেলার আটঘর-কুড়িয়ানা, ঝালকাঠি
সদর উপজেলার
ভীমরুলি ও
বরিশালের বানারীপাড়ার
সদর উপজেলার
এসব পেয়ারার
বাগানগুলোতে এ মৌসুমে পিকনিকের স্পট
হিসেবে ব্যবহার
করছেন ভ্রমণপিপাসু
অনেকেই।
No comments:
Post a Comment