বরিশাল নগরীর সৌন্দর্য্যহানী মিশনে সালাউদ্দিন রিপন - ৫২র বাংলা - সংবাদ সবসময়

Recent Topic

Post Top Ad

বরিশাল নগরীর সৌন্দর্য্যহানী মিশনে সালাউদ্দিন রিপন



শামীম আহমেদ . আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থীতা ঘোষনা দিতে বেশ কয়েক জন প্রার্থী নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন সড়কের পাশে^ এমন কি নগরীর কেন্দ্র বিন্দুতে সৌন্দর্য্য বর্ধন প্রকল্প ঢেকে তাদের শুভেচ্ছা বিল বোর্ড টানানোর ফলে বরিশাল নগরী এখন জঞ্জালে পরিনত হয়েছে। সূত্র মতে,আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল আসনে নিজেদের এমপি প্রার্থী হিসেবে জাহির করতে ইতি মধ্যেই মাঠে নেমেছেন বেশ কয়েক জন প্রার্থী। এদের মধ্যে রয়েছে বর্তমান সাংসদ জেবুনেচ্ছা আফরোজ ,এ্যাড.বলরাম পোদ্দার,লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মাহাবুব উদ্দিন (বীর বিক্রম), লীগ বরিশাল জেলা শাখার সহ-সভাপতি কর্নেল জাহিদ ফারুক শামিম, সদর উপজেলা চেয়্যারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টুসহ নব্য দুই দানবীর প্রার্থী যথাক্রমে আরেফিন মোল্লা সালাউদ্দিন রিপন। এদের মধ্যে নবাগত দুই প্রার্থী ছাড়া অন্য সকল প্রার্থীদের রয়েছে কম বেশি জনপ্রয়িতা। যার ফলশ্রুতিতে তারা প্রকাশ্য প্রচারনায় না গিয়ে কর্মীদের মাঝে নিজেদের নির্বাচনী তৎপরতা সিমাবদ্ধ রেখেছেন। তবে নবাগত দুই প্রার্থীর মধ্যে সালাউদ্দিন রিপন সরকারী সকল নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে নগরীর সদর রোড, আশি^নী কুমার টাউন হলের সম্মুখ,বিবিপুকুর পাড় ,বরিশাল বিভাগীয় যাদু ঘর জেলা পরিষদের পুকুরসহ নগরের বেশ কয়েকটি বিনোদন কেন্দ্রের সামনে শুভেচ্ছা জানিয়ে সড়কজুড়ে টানানো হয়েছে তার বিশাল আকারের বিল বোর্ড এত নগরের সৌন্দয্য ঢাকা পড়েছে। বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র দর্শনীয় স্থানগুলোর চারপাশ ঘিরে এখন ব্যানার-ফেস্টুনের ছড়াছড়ি। এগুলোর সবই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরেই বেশ কিছু দিন ধরে সমাজ সেবার নামে বরিশালবাসী মন কেড়ে নিতে চলছে তার নানা ছক। নব্য আওয়ামী লীগ নেতা দাবীদার বরিশাল আসনে চাইছেন দলীয় মনোনয়ন। বরিশাল সদর আসনের পূর্বাঞ্চলের বাসিন্দা সালাউদ্দিন রিপন। বরিশাল আওয়ামী লীগের কোন পদ-পদবি না থাকলেও চাইছেন এমপি পদে দলীয় মনোনয়ন। মনোনয়ন পাওয়ার জন্য ইতিমধ্যে তোরজোড় শুরু করেছে তিনি। পাশাপাশি অঢেল অর্থ বিলাচ্ছেন নির্বাচনী এলাকায়। অল্প বয়সে হঠাৎ কোটিপতি বনে যাওয়া এই নেতার পেশা হচ্ছে ব্যবসা। বরিশাল সদর আসনের ভোটারদের জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি) দেখে ভোটার নিশ্চিত হয়ে সাহায্য সহযোগীতা করছেন তিনি। চক্ষু চিকিৎসার নামে চলছে তার ভোটার আইডি কার্ডের ফটো কপি সংগ্রহ। বরিশাল আওয়ামী লীগের কোন নেতাই বিষয়টি ভাল চোখে দেখছেন না। টাকার গরম দেখিয়ে কিছু লোকজন নিয়ে শোডাউন দিচ্ছে নির্বাচনী এলাকায়। সালাউদ্দিন রিপন নিজ নামে এস.আর সমাজকল্যাণ সংস্থা খুলে বরিশাল সদরের ভোটারদের মাঝে অর্থিক সহযোগিতা প্রদান করছেন। ভোটারদের মাঝে হাঁস, মুরগী, গরু ছাগল বিতরণ করে সাধারন দরিদ্র মানুষের সহানুভুতি আদায় করার চেষ্টা করছেন সালাউদ্দিন রিপন। মসজিদে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান, একাধিক চক্ষু চিকিৎসার ফ্রি ক্যাম্প পরিচালনা করলেও  সকল কিছুর পিছনে রয়েছে আসন্ন সংসদ নির্বাচন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে বসতে চান পার্লামেন্টে। তবে ফ্রি চিকিৎসায় তিনি একটি ফরম পূরণ করছেন, যাতে উল্লেখ রয়েছে চিকিৎসা প্রার্থীরা তাকে বরিশাল- আসনে এমপি পদে দেখতে চান। অপরদিকে এরই মধ্যে বরিশালের প্রায় স্থানীয় পত্রিকায় এমপি পদে মনোনয়ন দাবি করে চলাচ্ছেন বিজ্ঞাপন। এদিকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেলেও স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। সালাইদ্দিন রিপনকে ভালোভাবে কেউ চেনে না। এর মাঝে উড়ে এসে জুড়ে বসা এই ব্যাক্তির কর্মকান্ডে রীতিমত বিরক্ত স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ। বরিশাল আওয়ামী লীগে তাদের অবস্থান কি জানতে চাইলে বরিশাল মহানগর লীগের সভাপতি এড. গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল বলেন, সালাউদ্দিন রিপন লীগের কোন পদে নেই। তবে সে লীগ সমর্থন করে। তারা দলীয় মনোনয়ন চাইতে পারেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মনোনয়ন যে কেউ চাইতে পারে। দেয়া না দেয়া মনোনয়ন বোর্ডের ব্যাপার। তবে এদের মনোনয়ন দাবি করাটা অযৌক্তিক বলে তিনি মনে করেন। বরিশাল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মহানগর আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, যুগ যুগ লীগের রাজনীতি করার পরেও অনেকে মনোনয়ন পান না। তারপরে আবার উড়ে এসে জুড়ে বসারা পাবেন মনোনয়ন। এটা হাস্যকর। তাছাড়া এরা আওয়ামীলীগের কেউ না। এদের নিয়ে তৃণমূল আওয়ামীলীগে বিভ্রাস্তির সৃষ্টি হচ্ছে। এবিষয়ে নগরীর আপন সংগীত সংগঠনের প্রতিষ্টাতা সভাপতি আজিজ হাওলাদার বাবুল বলেন,বিল বোর্ড টানানোর ফলে সাংস্কৃতি বিকাশের কেন্দ্র বিন্দু নগরীর অশি^নী কুমার টাউন হল এখন এই সব অবৈধ বিল বোর্ডের কারনে ঢাকা পড়েছে। ওখানে কোন অনুষ্ঠান হলে তা রয়ে যায় জনগনের অগোচরে। তিনি আরো বলেন,বিভিন্ন সময় টাউন হলের সম্মুখে উন্মুক্ত ভাবে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ রাজনৈতিক দল গুলো তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতো যাহা সম্মুখে দাড়িয়ে পথ চারি সহ সাধারন জনগন উপভোগ করতো। বিল বোর্ড গুলো টানানোর ফলে এখন সে কার্যক্রম সস্পূর্ন বন্ধ রয়েছে। আমরা সংশ্লিস্ট কতৃপক্ষের কাছে দ্রুত এই অবৈধ বিলবোর্ড গুলো অপসারনের দাবি জানাচ্ছি। তবে বিষয়টির সাথে রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গ জড়িত দাবি করে বিসিসির বিজ্ঞাপন শাখার সহকারী মাহাবুব হোসেন বাদল বলেন,আমরা এই বিলবোর্ড গুলো অপসারনে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কোন আর্দেশ পাইনি। এগুলোর সাথে রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গ জড়িত বিধায় ইচ্ছা থাকলেও অপসারনের সুযোগ নেই।

No comments:

Post a Comment

Recent Movies

Post Top Ad