শহিদুল ইসলাম। যৌতুক না পেয়ে স্বামীর প্রতারনায় অবুঝ সন্তান নিয়ে নিঃশ্ব হয়ে স্বামীর খোজে গ্রাম থেকে শহরে এসে মানুষের ধারে ধারে ঘুরছে তানিয়া বেগম। ভান্ডারিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের আতরখালী গ্রামের দেলোয়ার হাওলাদার মেয়ে তানিয়া বেগম জানান,গত ৫ বছর পূর্বে স্বরুপকাঠি উপজেলা ইউনিয়নের সাগরকান্ধা গ্রামের আবদুল হাই হাওলাদারের ছেলে তুহিন হাওলাদার সাথে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক রেজিষ্ট্রিকৃত কাবিন মূলে তাদের বিবাহ হয়। বিবাহের পরে তানিয়া বেগমকে শশুর বাড়িতে উঠিয়ে না নেয়ায় সে তার বাবার বাড়িতেই থাকতেন।বিবাহের পর থেকেই যৌতুক লোভী তুহিন যৌতুক বাবদ ১ লাখ টাকা দাবী করে। দাবীকৃত টাকা দিতে তানিয়া বেগম অপারগতা প্রকাশ করলে এ নিয়ে প্রায়ই তাকে নির্যাতন করত স্বামী তুহিন হাওলাদারও তার পরিবারের সদস্যরা।তুহিনের পরিবারের সকলেই বরিশাল ২৩ ওয়ার্ড সিকদার পাড়া ভাড়া বাসায় বসবাস করত।প্রতারক তুহিন তিন ভাই বোনের মধ্যে ২য়। তুহিন নগরীর মুনসিগ্রেজ এলাকায় একটি দর্জি দোকানের মালিক।তিনি মাঝে মধ্যে তার চাহিদা মেটানোর জন্য স্রী তানিয়াকে বরিশালে আসতে বলতো,কয়েক দিন রেখে যৌতুকের দাবি তুলে মার ধোর করে তারিয়ে দিত,এ ছিল তার অভ্যাস।বাবার বাড়িতে বছর খানেক পরে তাদের কোল জুরে একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়।তার পরও থেমে থাকেনি তাদের বিভেদ। গ্রামের শালিশদার থেকে শুরু করে নগরীর ২৩ নং ওয়ার্ড সংরক্ষিত কান্সিলর রেশমি বেগম বার বার চেষ্টা করেও যৌতুক লোভী তুহিনের পরিবার যেন তানিয়াকে ভরনপোশনের দায়িত্ব নেয়ার কঠোর ভাবে নির্দেশ দেয়ার পরও কয়েক দিন চুপ থাকার পর পুনরায় চলে নির্যাতন। লোভী তুহিনের পরিবারের মধ্যে বোন, ছোট ভাই, মা সকলে মিলে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন করত।তানিয়ার বাবা জমি বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা মেয়ের সুখের জন্য যৌতুক লোভী তুহিনের কাছে তুলে দেন।ছেলে সন্তানের বয়স যখন দুই বছর।তখন বরিশালে কাঠের একটি রুম ভাড়া নিয়ে তারা বসাবাস শুরু করেন।কয়েক মাস যেতে না যেতেই নানান অযুহাত দেখিয়ে শুরু হয় অমানুবিক নির্যাতন, এরই মধ্যে তার গর্ভে ভুমিষ্ট হতে থাকে আর এক সন্তানের,স্বামীর কাছে বিষয়টি জানালে যৌতুক লোভী তুহিন গর্ভে থাকা সন্তানকে নষ্ট করার জন্য চাপ দিতে থাকে,তাতে রাজি হননি তানিয়া বেগম। এজন্য তাকে দফায় দফায় তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে।তালাকের কথাও বলেছে বহুবার।স্বামীর পরিবারের কাছে অভিযোগ জানালেও তারা নিরব ভুমিকা পালন করা সহ যৌতুক দাবি করে বলেছেন, তোর বাবার বাড়িতে এক লক্ষ নিয়ে আয় তা হলে সংসার ভাল চলবে। যদি না পারো তোকে তালাক দিয়ে দিবে।তার পর নতুন করে প্রথিবীর বুকে জন্ম নেন আর এক কন্যা সন্তান।জন্মদাতা পিতা যৌতুক লোভী তুহিন হাওলাদার তার কন্যা সন্তান জন্মগ্রহনের কথা শোনা মাত্র তিনি লাপাত্রা। নিজের স্রী সন্তান সহ তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়া এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।তখন অভিযোগ উঠে যৌতুক লোভী তুহিনের পরিবারের যোগসাজশে তাকে বরিশালের বাহিরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।এখন আমার কন্যা সন্তানের বয়স ১৭ মাস হয়েছে,আমি সুস্হ হওয়ার পর পাষণ্ড স্বামী কে সব জায়গায় খোজ করেছি কোন সন্ধান মিলছে না।এই বলে তিনি বরিশাল সময় প্রতিবেদকের কাছে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। কোলে থাকা অবুঝ সন্তানটি শুকনা মুখে মায়ের দিকে তাকিয়ে বাবা কথা বলছে।তার স্বামীর পূর্বেও কয়েকটি বিবাহ রয়েছে বলে জানতে পারেন। এ নিয়ে প্রতিদিনই তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি চলতেই থাকত। একপর্যায়ে নিজেকে সুধ্রে নেয়ার অঙ্গীকার করে চতুর তুহিন। তানিয়া বেগম তার পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে কয়েক দফায় প্রায় লাখ টাকা দেয় স্বামীকে।তানিয়া বেগম আরও জানায়,দোকান দিবার নামে তার কছ থেকে তুহিন যে টাকা নিয়েছে তা সে উড়িয়ে দেয়। পরে কৌশলে আমার কাছ থেকে আবারও প্রায় ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় তুহিন। পুনরায় তার স্বামী টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করলে তানিয়া নিরুপায় হয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে বরিশাল বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি যৌতুক মামলা করেন। তুহিনের পরিবার মামলার বিষয়টি অবগত হলে গত এক বছর আগে তার স্ত্রী তানিয়া বেগম ও তাদের দুইটি সন্তান ইসা হাওলাদার বয়স ৩ বছর ৬ মাস। ১বছর ৫ মাস বয়সি তামান্নার খোজ খবর না নিয়ে তারা আত্ম-গোপন করে।
অবস্থায় তানিয়া বেগম তার পৈত্রিক সম্পদ ও নগদ অর্থ হারিয়ে নিশ্বঃ অবস্থায় অবুঝ শিশু সন্তান নিয়ে বিভিন্ন বাড়িতে ঝি এর কাজ করে দিন কাটাচ্ছেন। এই প্রতিবেদকের প্রতি অনুরোধ রেখে তানিয়া বেগম বলেন,গত কয়েক দিন পূর্বে তার এক নিকট আত্মীয়ের মাধ্যমে জানতে পারেন যে,তার স্বামী ঢাকায় পুনরায় আরেকটি বিবাহ করার পায়তারা করছে। এই সংবাদটি যদি প্রকাশ করা হয় তবে হয়ত তার প্রতারক স্বামীর প্রতারনা থেকে অনেকেই রক্ষা পাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তানিয়া বেগম। এদিকে খোজ নিয়ে জানা যায় তুহিনের বড় বোন চৌমাথা সিকদার প্যালেস ভবনে মহিলা মাদ্রাসায় কর্মরত আছেন।তাকে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে বন্ধ পাওয়া যায়। চলবে


No comments:
Post a Comment