স্টাফ রিপোর্টার ॥এবার বরিশাল নগরীতে এক গর্ভবতী নারীকে দেয়া হয়েছে আযুবেদীক ঔষধ। তিয়ানসি (বাংলাদেশ
) কোম্পানী লিঃ এর এক প্যাডে গর্ভবতী নারীকে ঔষধ হিসেবে লিখে দেয়া হয়েছে, ক্যালসিয়াম, গ্যাসট্রিক, এবং ভিটামিন আযুবেদীক ঔসধ। যার কোম্পানী ঔষধ মূল্য প্রায় ৫ হাজার টাকা। যা কিনা ঐ কোম্পানী ছাড়া আন্য কোথাও পাওয়া যায়না। বরিশাল নগরীর চৌমাথা হাতেমআলী কলেজ সংলগ্ন প্রতিষ্ঠানটির
ব্যক্তি নাম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ন্যাচারাল হেলথ কেয়ার এন্ড থেপাপি সেন্টার হিসেবে। কোন প্রকার ড্রাক লাইসেন্স বা বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদন ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি
বিভিন্ন মানুষের মাধ্যমে ঔষধ বিক্রি করছে। জানাগেছে, পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার দশমিনা থানার হোসনে আরা বেগম গত ২৩ মার্চ গর্ভজনিত কারন নিয়ে ডাক্তার দেখাতে বরিশালে আসে। সেখানে তারই এক নিকটতম আত্মীয়ে পূর্বের পরিচিত সুমা (কোম্পানীর এজেন্ট) তাকে ডাক্তার দেখাতে ন্যাচারাল হেলথ কেয়ার এন্ড থেপাপি সেন্টারে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ৫শ টাকা ভিজিট দিয়ে নামধারী ডাক্তার জহিরুল ইসলামকে দেখায়। জহিরুল ইসলাম তাকে ক্যালসিয়াম, গ্যাসট্রিক, এবং ভিটামিন আযুবেদীক ঔষধ লিখে দেয় এবং ঔষধের মূল্য ৫ হাজার টাকা বলে জানায়। টাকা না থাকায় তিনি ঔষধ কিনে আনতে না পেরে বাড়ি চলে আসে। বাড়ি গিয়ে ডাক্তার তাকে কোন পরীক্ষা নিরিক্ষা না করে ঔষধ দিয়েছে জানালে হোসনেআরার আত্মীয়রা সংবাদকর্মীদের
সরনাপন্ন হয়। পরে সরজমিনে ঐ কোম্পানীতে গেলে জানাযায় জহিরুল ইসলাম আদৌ কোন ডাক্তার নয়। তিনি বরিশাল অমৃত লাল দে কলেজ থেকে আয়ুবেদীক কোর্স করেন। পরে ঢাকার তিয়ানসি (বাংলাদেশ ) কোম্পানী
লিঃ এর বিভিন্ন রোগের আযুবেদীক ঔষধ বরিশালে ডিস্টিবিউশনের
দায়িত্ব নেন। বর্তমানে তার অধীনে বরিশালে ৩শ নারী পুরুষ বিভিন্ন লোকের কাছে এই ঔষধ বিক্রি করছে। তিয়ানসি (বাংলাদেশ
) কোম্পানী লিঃ এর নামে প্রতিষ্ঠানের
নাম থাকলেও আদৌ কাগজপত্রে ন্যাচারাল হেলথ কেয়ার এন্ড থেরাপি সেন্টার নামে তার কোন কাগজপত্রই নেই। এমনকি ২০১৬ সালে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন থেকে আনা একটি ট্রেড লাইসেন্স এর ফরম এনেছেন মাত্র। তা আদৌ জমি দেননি তিনি। (হঁঃরৎরবহঃ ঐরময ঈধষপরঁস চড়ফিবৎ) পুষ্টিকর
উচ্চ ক্যালসিয়াম পাউডার নামে ঔষধের প্যাকেটে উচ্চ পরিমান দাম দেয়া থাকলেও তাতে বিএসটিআই এর কোন সিল বা সরকারী কোন অনুমোদনের সীল মোহর নেই। যতদুর জানাযায়, বরিশালে
ডেস্টিনির নিয়মে পাল্টিপারপার্স কোম্পানীর নিয়মে জহিরুল ইসলাম বরিশাল নগরীতে আয়ুবেদীক ঔষধ বিক্রি করছে। তিনি প্রথমে বরিশাল নগরীর ব্রাউন কম্পাউন্ড রোডে সল্প পরিসরে এই ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে ব্যবসার প্রসারর হওয়ায় তিনি চৌমাথা এলাকায় একটি ভবনের তৃতীয় তলায় তার বৃহত্তর প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। গর্ভবতী নারীকে চিকিৎসা দেয়া ও ৫শ টাকা ভিজিট নেয়ার বিষয়ে জহিরুল ইসলাম জানান, আমি কোন ভিজিট নেই নাই। তবে সানে থাকা আমার লোক রাসেল নিতে পারে। তবে ঘটনার ঐ সময় রাসেলকে ডাকতে বললে তিনি বলেন আজ শনিবার তাই তিনি আসেনি। ঔষধের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঐ মহিলা আমাকে তার রোগ হিসেবে পায়ের শিরায় ব্যাথার কথা বলেছিলো তাই ঔষধ লিখে দিছি। আর সে যথন পরে গর্ভ ধারননের বিষয়ে বলে তখন তাকে ঔষধ নিতে বারন করি। এদিকে হোসনে আরার স্বজনরা জানিয়েছে, গর্ভধারনের বিষয় নিয়েই ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলেন তিনি। থেপারি সেন্টার নাম দেয়ার হিষয়ে জানতে চাইলে জহিরুল ইসলাম বলেন , ঐ মেসিনটি আমি নিজের অর্থ দিয়ে কোম্পানীর কাছ থেকে কিনেছি। ওটা যে কোন ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু তার জন্য কোন টাকা নেয়া হয়না। তবে সরজমিনেই দেখা গেছে মেশিনের সামনে এক মাত্রা অনুযায়ী টাকা নেয়ার লিষ্ট টানানো রয়েছে।

No comments:
Post a Comment