বায়ান্নোর বাংলা ডেস্ক . গণধোলাইয়ে
কাউকে মেরে ফেলা হলে ছাত্রলীগ
তার দায় নেবে না বলে বক্তব্য দিয়েছেন বরিশালের এক ছাত্রলীগ
নেতা। কোটা আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘গণধোলাইতে কেউ নিহত হলে দয়া করে ভুল ভাইবেন নজা।’ তার এমন বক্তব্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ছাত্রলীগ নেতা দাবিদার এ ছাত্রের
নাম খায়রুল হাসান সৈকত। তবে ছাত্রলীগে
তার কোনো পদ পদবী নেই বলে জানিয়েছেন
বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এছাড়াও বুধবার বরিশাল নগরের সরকারি বিএম কলেজে কোটা আন্দোলনকারীদের বাধা দেয়ার সময় সদ্য বিলুপ্ত ছাত্রলীগ নেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ
সম্পাদক জাকির হোসেনকে নিয়ে বিরুপ কথা বলে আন্দোলনকারীদের হুমকি দেন সৈকত।
যার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সেদিন রাতেই ফেসবুকে ওই স্ট্যাটাস
দেন তিনি। সৈকতের এমন কর্মকান্ডে
বিব্রত ছাত্রলীগ নেতারা। ফেসবুক টাইমলাইনে খায়রুল হাসান সৈকত লেখেন, ‘অত্যন্ত বিনয়ের সাথে জানানো যাচ্ছে যে, কোটা আন্দোলনের নামে বরিশাল সরকারি বিএম কলেজের শান্ত পরিবেশকে অস্থিতিশীল করা হলে বিএম কলেজ ছাত্রলীগ কঠোর রূপ ধারণ করতে বাধ্য হবে। সরকার বিরোধী কর্মকান্ডে জামায়াত শিবির ঐক্যবদ্ধ হয়ে অরাজকতা
করবে আর ছাত্রলীগ আঙ্গুল চুষবে সেটা ভাবা বোকামি। আজ জীবনের
সর্বোচ্চ ধৈর্য্যটুকু ধারণ করেছিলাম, পরবর্তী দেখায় গণধোলাইতে কেউ নিহত হলে দয়া করে ভুল ভাইবেন না আমাদের।’
আর ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, কোটা আন্দোলনে বাধা দিলে আন্দোলনকারীরা বলেন, আমরা আমাদের মত আন্দোলন
করছি। এতে আপনারা বাঁধা দিচ্ছেন কেন। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছি। এসময় সৈকত আন্দোলনকারী এক ছাত্রীকে
হুমকি দেন। বলেন, এটা রাজনৈতিক
ইস্যু। এটা নিয়ে বিএম কলেজে কিছু হবে না। সৈকত আন্দোলনকারীদের মধ্যে যে ছাত্রলীগ
কর্মী রয়েছে তাদের আন্দোলন থেকে সরে যেতে বলেন। নতুবা কমিটিতে তাদের কোনো পদ পদবী দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন। সৈকত আন্দোলনকারীদের মধ্যে থাকা ছাত্রলীগ নেতাদের বলেন, সোহাগ-জাকিরের কমিটি বাতিল হওয়ার কারণ হল তারা কোটা আন্দোলন দমাতে পারেনি। তাই তাদের
কমিটি বাতিল করা হয়েছে।
আমরা পরিশ্রম করি, তাই বলে তোমাদের আন্দোলন করতে দেব সেটা হবে না। আন্দোলন
হবে না বিএম কলেজে। এরপর আন্দোলনরত এক ছাত্রীকে
মারধর ও শ্লীতাহানির অভিযোগ ওঠে ছাত্রলীগ
সৈকতের বিরুদ্ধে। ছাত্রলীগের সিনিয়র নেতারা জানান, আসলে এই কাজটি
ঠিক হয়নি। তিনি যে বক্তব্য
দিয়েছেন তাতে ছাত্রলীগের মান ক্ষুন্ন
হয়েছে। অবশ্য তার কোনো পদ নেই ছাত্রলীগের
কোনো ইউনিটে। তাকে আমরা ছাত্রলীগ নেতাও বলতে পারি না। তবে ছাত্রলীগ নেতা খায়রুল হাসান সৈকত জানিয়েছেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
কোটা সংস্কারের কথা বলেছে।
সেখানে এই আন্দোলন ভিত্তিহীন। এই আন্দোলনের
পেছনে আ’লীগের বিপরীত শক্তির হাত রয়েছে।
কলেজের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার জন্য এই মিছিল
করা হচ্ছে। যেটা প্রতিরোধ করেছি আমরা।
Post Top Ad
গণধোলাইয়ে কাউকে মেরে ফেলা হলে ছাত্রলীগ তার দায় নেবে না
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment