বায়ান্নোর বাংলা ডেস্ক. ভেনিস খ্যাত সিটি
হিসেবে সুপরিচিত বরিশাল নগরী আজ জরাজীর্ণ অবস্থা। নগরীর প্রতিটি সড়ক বলতে গেলে চলাচলের অযোগ্য। ধুলাবালি পূর্ণ সড়কের পাশাপাশি ময়লা-আবর্জনা সহ ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশা। একটু বৃষ্টিতেই পানি জমছে রাস্তায়। প্রধান সড়কগুলোর উপরে
পড়ে রয়েছে ময়লার স্তুপ। দুর্গন্ধে সড়ক দিয়ে চলাচলই দ্বায়।ফুটপাত অবৈধ দখলদারদের কবলে। রাতে পর্যাপ্ত সড়ক
বাতির অভাব। ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার দৌরাত্মে মুখ থুবড়ে
পড়েছে ট্রাফিক ব্যবস্থা। এমতাবস্থায় নগরবাসী
প্রতিক্ষার প্রহর গুনছে তাদের নতুন মেয়রের জন্য। তাদের প্রত্যাশা নতুন মেয়র দায়িত্ব নিয়ে নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি নগরীর
সেই পুরাতন যৌলুশ ফিরিয়ে আনবেন।গড়বেন আধুনিক নগরী।এদিকে, নগরবাসীর পাশাপাশি সদ্য বিজয়ী মেয়র সেরনিয়াবাত
সাদিক আবদুল্লাহ দুইদিন পরই দায়িত্ব নিচ্ছেন। দায়িত্ব বুঝে নিয়েই তিনি খুব দ্রুত নগরবাসীর সেবায় কাজ শুরু করবেন এমন আশা নগরবাসির।নির্বাচনের দিন রাতে নিজের জয় নিশ্চিত জানার পর তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করে জানিয়েছিলেন,
নগরবাসির চাওয়াকে প্রধান্য দিয়ে তিনি গড়েতুলবেন মেঘাসিটি।নগরবাসীর দেয়া তথ্য মতে, ২০০৮ সালে সওকত হোসেন
হিরন নির্বাচিত হবার পর তিনি স্ব-উদ্যোগে এই নগরীকে পরিচ্ছন্ন করে সাজিয়ে তোলেন। নগরীকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেন অনন্য এক নগরী হিসেবে। এনে দিয়েছিলেন ভেনিস নগরীর খেতাব। এছাড়াও নগরীর প্রতিটি
সড়ক সংস্কারের পাশাপাশি সড়কগুলোকে প্রশস্থ করার কাজও করা হয় তার সময়কালে। পাশাপাশি বিসিসির পরিচ্ছন্ন কর্মীদের মাধ্যমে বাসায় বাসায় গিয়ে প্রতিদিন ময়লা-আবর্জনা
তুলে নিয়ে আসা শুরু করা হয় শওকত হোসেন হিরন
মেয়র থাকাকালীন সময় থেকেই। নগরীর ধূলিকণা নিয়ন্ত্রণে
রাতে নগরীর প্রধান সড়কগুলো পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের দিয়ে ঝাড়ু দেয়ার কাজ শুরু করা হয়। নগরবাসীর পাশাপাশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে নদী তীরবর্তী এলাকাগুলো সৌন্দর্যমন্ডিত
করা হয়। বঙ্গবন্ধু উদ্যান সহ নদীর ধার দিয়ে পায়ে হাটা রাস্তা নির্মাণ
করা হয়। এর সবই হয়েছে তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে।প্রাপ্ত তথ্য মতে, সওকত হোসেন হিরন মেয়র
থাকাকালীন নগরীর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের
কাজ করা হয়েছে বা চলমান ছিল।তবে ২০১৩ সালের নির্বাচনে
তিনি পরাজিত হওয়ায় নগরীর সকল উন্নয়ন থমকে যায়। ২০০৮ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত হওয়া উন্নয়নের চিহ্নগুলোও ধীরে ধীরে নষ্ট হতে থাকে। পর্যটন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত কীর্তনখোলা নদীর তীর,গ্রিন সিটি পার্ক সহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র গুলো। নগরীর প্রায় প্রতিটি রাস্তা পরিকল্পনার অভাবে আজ জরাজীর্ণ ও খানাখন্দে পূর্ণ। নগরীর বাস টার্মিনালসহ অলিগলির রাস্তাগুলো এখন প্রায় চলাচলের অযোগ্য। ভেনিস খ্যাত নগরী আজ ধূলার শহর। একটু বৃষ্টিতেই পানি
জমে শহরের প্রধান সড়কসহ অলিগলির রাস্তাগুলোতে।তবে সদ্য বিদায়ী মেয়রের অভিযোগ ছিল, তিনি সরকারের
সহযোগীতার অভাবে ইচ্ছা থাকা সত্বেও কাজ করতে পারেননি।সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের রয়েছে
নিজস্ব জনবলসহ পরিচ্ছন্নতা কর্মী। তাদেরকে কাজে লাগাতে
সরকারের সহযোগীতার প্রশ্নই আসে না। জনদুর্ভোগ লাঘব করতে
প্রয়োজন ছিল মেয়রের নিজস্ব উদ্যোগ। আর সেই উদ্যোগেরই অভাব
ছিল সদ্য বিদায়ী মেয়রের।চৌমাথা এলাকার বাসিন্দা
সজিব বলেন, দীর্ঘ প্রায় ৫ বছর ধরে বাজারের প্রবেশদ্বারে,শহীদ আলমগীর ছাত্রবাসের সামনে ময়লা আবর্জনার স্তুব,প্রতিদিন হাজার যাতায়াত করে। দুগ্ধে নাক চেপে চলাচল করতে হয়।এদিকে, ব্যস্ততম এলাকার সড়ক সহ ওয়ার্ড পর্যায়ের সড়ক গুলো খানাখন্দে ভরা। দীর্ঘদিন এই রাস্তাগুলো সংস্কার না করায় এখন সেই রাস্তাগুলো নগরবাসীর দুর্ভোগের
অন্যতম প্রধান কারণ। মহাসীন মার্কেট,বাজার রোড,চকবাজার,চৌমাথা, হাসপাতাল রোড, বিশেষ করে নগরভবন সহ আশপাশের জনবহুল এলাকাগুলো আজ অবৈধ ফুটপাত দখলদারদের কবলে। এদের কারণে আজ সাধারণ নগরবাসীর পায়ে হাটা পথ খুঁজে পাওয়াই দ্বায়।অন্যদিকে, নগরীতে অনিয়ন্ত্রিত হারে বাড়ছে ব্যাটারি চালিত
অটোরিকশা। এছাড়া রাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকার সড়কগুলোতে নেই পর্যপ্ত সড়ক
বাতি। বিদ্যুতের পোলগুলোতে একবার বাল্ব কেটে গেলে তা লাগাতে মাসের
পর মাস পর হয়ে যায়। ফলে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন নগরবাসী।বটতলা হাতেম আলী কলেজ ছাত্রাবাস,বেগম সুফিয়া
কামাল ছাত্রীনিবাসের উত্তর পাশের সড়ক, পোর্ট রোড সড়কসহ
নগরীর প্রায় প্রতিটি এলাকার প্রধান সড়ক দখল করে ময়লার স্তুপ করে ফেলে রাখা হয়েছে। এতে করে নগরবাসীর যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দুর্গন্ধে চলাচলই দ্বায়। কাজি পাড়া সিএন্ড বি
রোড এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, দিন-রাত ময়লার স্তুপ করে ফেলে রাখা হচ্ছে। ফলে এই এলাকা দিয়ে যাতায়াত করতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীসহ রাস্তাটি দিয়ে
যাতায়াতকারীদের। গত ৫ বছরে নগরী ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। নগরবাসীর অভিযোগ, বৃষ্টি মৌসুমে সুষ্ঠু ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবেই
এই জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে।পর্যায়ক্রমে নগরীর
উন্নয়নগুলো নষ্ট হবার পাশাপাশি দুর্ভোগ বৃদ্ধির কারণে নগরবাসী অতিষ্ঠ। আর এই দুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে এবারের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নগরবাসী
তাদের নতুন নগর পিতা নির্বাচন করেছেন। তাদের একটাই চাওয়া
নতুন নগর পিতা কোন প্রতিশ্রুতি না দিলেও নগরবাসির
চাওয়া পাওয়াকে তিনি প্রধান্য দিয়ে কাজ করবেন। নগরবাসীকে তাদের বর্তমান দুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণ দেবেন এটাই চাওয়া।
No comments:
Post a Comment