বায়ান্নোর
বাংলা ডেস্ক . স্ত্রীর পরকীয়ায় বাঁধা দেয়ায় প্রবাসী স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার ঘটনায় নিহতের পিতার দায়ের করা মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে নিজের প্রবাসী ভাসুর, জা এবং এলাকার দিনমজুরদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি বরিশালের প্রবেশদ্বার গৌরনদী উপজেলার ভূরঘাটা গ্রামের।বর্তমানে মামলা প্রত্যাহারের
জন্য নিহতের স্ত্রী, তার পরকীয়া প্রেমিক এবং এলাকার কতিপয় প্রভাবশালীরা
দিনমজুর আসামিদের কাছে মোটা অংকের টাকা চাঁদা দাবি করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের দাবিকৃত চাঁদার টাকা না দেয়ায় পুলিশ দিয়ে দিনমজুর আসামিদের হয়রানী করা হচ্ছে। ফলে মিথ্যে মামলায় আসামি হয়ে গত একমাস ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন নিহত প্রবাসী বাদল আকনের বড়ভাই, ভাবী,
বোন ও দিনমজুর পরিবারের সদস্যরা। প্রবাসী পুত্র বাদল আকনকে পরিকল্পিতভাবে
হত্যার ঘটনায় গত ৩ মে শিক্ষিকা পুত্রবধূ ও তার পরকীয়া প্রেমিকসহ ১২ জনকে আসামি করে বরিশাল অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট
আদালতে দায়ের করা হত্যা মামলার বাদি নিহতের পিতা আলহাজ গোলাম আলী আকন জানান, মুলাদী
উপজেলার চরকালেখা গ্রামের শাহআলম সিকদারের কন্যা সুমা বেগমকে সামাজিকভাবে প্রায় ১০ বছর আগে তার পুত্র বাদল আকন বিয়ে করে। বিয়ের পরপরই বাদল প্রবাসে চলে যায় এবং তার উপার্জিত প্রায় ৫০ লাখ টাকা স্ত্রী সুমার নামে পাঠায়। স্বামীর অনুপস্থিতিতে
তার পুত্রবধূ ও পশ্চিম খাঞ্জাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সুমা বেগম প্রতিবেশী কালাচাঁন সরদারের পুত্র বেল্লাল সরদারের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পরে। তিনি আরও জানান, চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল বাদল দেশে ফিরে পরকীয়ার বিষয়টি জেনে স্ত্রী সুমা বেগমের কাছে টাকার হিসেব চাইলে সে (সুমা)
চরম ক্ষিপ্ত হয়। এনিয়ে তাদের দাম্পত্য কলহের জেরধরে গত ২৬ এপ্রিল সকাল সাড়ে সাতটার দিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সুমা বেগম ও তার পরকীয়া প্রেমিক বেল্লালের নেতৃত্বে তাদের ১২/১৩জন সহযোগীরা বাড়িতে এসে বাদলকে মারধর করে। একপর্যায়ে বাদল জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা হাসপাতালে ও তাৎক্ষনিক বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নেয়ার পথে বাদল মারা যায়। আলহাজ গোলাম আলী আকন জানান, পরকীয়ার
ঘটনাটি পুরোপুরি আড়াল করতে তার পুত্র বাদল আকনের হত্যাকান্ডটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালীরা
সুমা বেগমকে বাদি সাজিয়ে থানায় একটি মিথ্যে মামলা দায়ের করিয়েছে। হয়রানীমূলক মামলায় তার (গোলাম
আলী) মেজ পুত্র নজরুল আকনের হামলায় বাদলের মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। ওই মামলায় প্রবাসী নজরুল আকন, তার স্ত্রী রেহানা বেগম, একই বাড়ির ভ্যানচালক হালান আকন, দিনমজুর
হান্নান আকন, মাজেদ আকন, লতিফ আকন, বোন রেকসোনা বেগম ও তার স্বামী আজিবর খানকে আসামি করা হয়েছে। সোমবার সকালে আত্মগোপনে থাকা মামলার আসামি দিনমজুর হালান আকন, হান্নান আকন, আব্দুল লতিফ ও মাজেদ আকন জানান, মামলা দায়েরের পর বাদি সুমা বেগম ও তার পরকীয়া প্রেমিক বেল্লাল সরদার এবং এলাকার কতিপয় প্রভাবশালীরা
তাদের (দিনমজুর)
কাছে মোটা অংকের টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে। তাদের দাবিকৃত চাঁদার টাকা না দেয়ায় পুলিশ দিয়ে হয়রানী করা হচ্ছে। ফলে মিথ্যে মামলায় আসামি হয়ে গত একমাস ধরে তারা নিজবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। অসহায় দিনমজুররা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের মাধ্যমে মিথ্যে মামলা থেকে তারা অব্যাহতি পাওয়ার জন্য প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশুহস্তক্ষেপ
কামনা করেছেন।
Post Top Ad
পরকীয়ার ঘটনা ধামা চাঁপা দিতে বরিশালে দিনমজুরদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের, চাঁদা দাবি
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment