বরিশালে মহাসড়ক নির্মাণে সরকারের অধিগ্রহণকৃত জমিতে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা - ৫২র বাংলা - সংবাদ সবসময়

Recent Topic

Post Top Ad

বরিশালে মহাসড়ক নির্মাণে সরকারের অধিগ্রহণকৃত জমিতে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা



বায়ান্নোর বাংলা ডেস্ক . বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের ১ম কিলোমিটারের পার্শ্বে সরকারী জমিতে অবৈধ স্থাপনার বিষয়টি তদন্ত পূর্বক চিহ্নিত করা হলেও উচ্ছেদ অভিযান না থাকায় দিনে দিনে চা-সিগারেট- মুদি দোকান ভাসমান কাঁচাবাজারসহ খাবার হোটেলের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। উন্নত মহাসড়ক নির্মাণে সরকারের অধিগ্রহণকৃত জমিতে অবৈধ স্থাপনার উপর জমিসহ দোকানের মালিকানা দাবি করে একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রেখেছে ইলিয়াস হোসেন গং। নগরীর সাগরদি মেসার্স ডোস্ট ট্রেডার্স ফিলিং স্টেশন থেকে রুপাতলী যাবার পথে প্রায় অর্ধশতাধিক স্থায়ী-অস্থায়ী অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। অনুসন্ধানের তথ্য প্রমাণে বেড়িয়ে এসেছে, বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের ১ম কিলোমিটারের পার্শ্বে সরকারী জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত ঘর/অবকাঠামো অপসারণ করার প্রসঙ্গে ২০১৬ সালের ২১ জুন নগরীর রুপাতলী চান্দুমার্কেট এলাকার এক বাসিন্দা বরিশাল জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেয়। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের পক্ষ থেকে  বিষয়টি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা বরিশাল সদর উপজেলা ভূমি অফিস কানুনগো গিয়াস উদ্দিন আহম্মদসহ একই অফিসের সার্ভেয়ার কামরুল হাসান নুরুল ইসলাম ২০১৬ সালের ১৪ নভেম্বর সহকারী কমিশনার (ভূমি) জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এস. শাখায় তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণ করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকে, বরিশাল সিটি করপোরেশনের অর্ন্তভূক্ত ৫৬ নং রুপাতলী মৌজার একাধিক দাগের জমি বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের অনুকূলে ০৪/১৯৭০-৭১ নং এল. কেসের মাধ্যমে সরকার জমি অধিগ্রহণ করেন। অধিগ্রহণকৃত জমির মধ্যে ৫৮২ নং দাগে মোঃ ইলিয়াস গং একটি টিনের দোকান অবৈধভাবে নির্মাণ করে দখলে রয়েছে। তদন্তকালীন সময় দোকানটি বন্ধ পাওয়া গেছে। এমন অবস্থায়দ্যা গর্ভনমেন্ট লোকাল অথরিটি ল্যান্ডস এন্ড বিল্ডিংস রিকভারী অব পজেশন অর্ডিন্যান্স ১৯৭০ তথা আদেশ নং ৮৫/৭২ মোতাবেক সড়ক জনপথের সরকারী জমি হতে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।বলে  প্রতিবেদনে ব্যক্ত করেছে ওই তিন তদন্তকারী কর্মকর্তা। আবার বিনা প্লানে সরকারী রাস্তায় জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ অপসারণ করার প্রসংঙ্গে ইলিয়াস হোসেন গং কে ২০১৫ সালের ১০ ডিসেম্বর চুড়ান্ত নোটিশ প্রদান করেছিল বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) এর পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। যার স্বারক নং বিসিসি/ইডি/উচ্ছেদ/২০১৫।  যার অনুলিপি প্রেরণ করা হয় বিএমপি পুলিশ কমিশনার, নগরীর ২৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিসিসি উপ-সহকারী প্রকৌশলী বরাবর।  বরিশাল সিটি করপোরেশন আইন ২০০৯ এর ৯২ () ধারা (৫ম তফসিল) মোতাবেক অপরাধমূলক কাজ করায় নোটিশ প্রদান করা হয়। সরকার ঘোষিত ভূমি অফিসের জমির ম্যাপ এবং মহাসড়ক নির্মাণে সরকারের অধিগ্রহণকৃত জমিতে ইঞ্জিনিয়ারদের সড়ক ম্যাপে পরিস্কারভাবে ফুটে উঠেছে, রুপাতলী ৫৬ নং মৌজার  জমির দাগ নং ৬৩০, ৬২৯, ৬৩০, ৬২৭, ৫৮২, ৫৮১, ৫৮০, ৫৭৯, ৫৭৮, ৫৭৭, ৫৭৬, ৫৭৫, ৫৭৪, ৫৬৮, ৫৬৭, ৫৪১, ৫৩৯, ৫৩৮ ৫৩৭ নং দাগের মধ্যে উন্নত মহাসড়ক নির্মাণের প্রয়োজনীয় পরিমানের জমি সরকার অধিগ্রহণ করে। যার মধ্যে ভাগের ভাগই  অবৈধ দখলদারদের ভোগ দখলে। কেউ ভাসমান আবার কেউ স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করেছে সরকারী জমিতে। সরেজমিন পরিদর্শকালে দেখা গেছে, নিজ মালিকানা জমিতে অর্থাৎ সরকারের অধিগ্রহণকৃত জমির পরের অংশে অনেকেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে বসেছে। সকল ব্যবসায়ীরা সিটি করপোরেশনের নিয়ম মেনেই স্থাপনাসহ ব্যবসা-বাণিজ্য করলেও তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে সরকারী জমিতে বেড়ে গেছে অবৈধ স্থাপনা। আবার সরকারী জমিতে এবং বৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে ছোট একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে লিখে রেখেছে এই জমির মালিক মোঃ ইলিয়াস হোসে গং। এই জমি  সরকারের অধিগ্রহণ হয়নি। স্থানীয় মৃত . খালেক সিকদারের ছেলে ইলিয়াস হোসেন গং। অনেকেই বলেছে সাগরদি মেসার্স ডোস্ট ট্রেডার্স ফিলিং স্টেশন নামক প্রতিষ্ঠানটিও সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণ করা জমি দখলে রেখেছে। মেইন রাস্তা সংলগ্ন এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনের অংশ। আবার সরকারের অধিগ্রহণকৃত কয়েক দাগের মধ্যে রয়েছে বরিশাল সড়ক জনপথ বিভাগ (সওজ) কর্মরত একাধিক অফিস কর্মচারীদের বসতঘর লোকমুখে সওজ কোয়ার্টার নামে পরিচিত থাকলেও বাস্তবে সরকারী অনান্য প্রতিষ্ঠানের রুপে এটি (কোয়ার্টার) নয়।  মেইন রাস্তার সাথেই কোয়ার্টারটি। অভিযোগ উঠেছে, সওজ বিভাগের কর্মচারীরা সরকারী জমিতে বাঁশ-কাঠ-টিন দিয়ে বসতঘর নির্মাণ করে ভাড়া বাবদ মাসোহারা কামাচ্ছে। সরকারী জমিতে সরকারী কর্মচারীদের পাশাপাশি সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণকৃত জমিতে অবৈধ স্থাপনা সম্পর্কে বরিশাল সওজ নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দঃ গোলাম মোস্তফা বলেন, সরকারী জমিতে সরকারী কর্মচারী বসবাস করবে। আবার প্রয়োজনে সরকার নিয়ে নিবে। এটা স্বাভাবিক। তবে সরকারের অধিগ্রহণকৃত জমিতে অবৈধ স্থাপনা সে বিষয়টি দেখবে অন্য প্রতিষ্ঠান। কেননা সেই সব প্রতিষ্ঠান জানে কোন স্থান থেকে কতটুকু জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।


No comments:

Post a Comment

Recent Movies

Post Top Ad