বায়ান্নোর বাংলা ডেস্ক
.
বরিশাল
নগরের ২৪ নং ওয়ার্ড শেরে-ই-বাংলা সড়কের জাহিদাতুন নেছা মহিলা মাদ্রাসার ১৩ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানী ও আটকে রাখার অভিযোগে হিজলা থানায় কর্মরত কনস্টেবল আবু ইউসুফ ও মাদ্রাসার মালিক জাহিদাতুন নেছার বড় ছেলে জাহিদুল ইসলামকে আটক করেছে কোতয়ালী মডেল থানার এস আই নজরুল। এদিকে ঘটনার কয়েক ঘন্টা পরেই পৃথক অভিযান চালিয়ে মাদ্রাসা মালিকের বাসা থেকে মাদকসহ তার মেঝো ছেলেকেও আটক করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১১ টায় নগরের ধান গবেষনা এলাকা থেকে প্রথমে জাহিদুলকে যৌন হয়রানীর অভিযোগে আটক করা হয়। এ ঘটনায় গতকাল ছাত্রীর মা আফরোজা বেগম বাদী হয়ে কোতয়ালি মডেল থানায় নারী নির্যাতনের ১০ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নূরুল ইসলাম। ভিকটিম ওই মাদ্রাসার কুরসী বিভাগের ছাত্রী জানান, মাদ্রাসার মালিক জাহিদাতুন নেছার বাড়িতে থেকেই কাজ করার পাশাপাশি ওই মাদ্রাসায় লেখা পড়া করে আসছিলো। গত মঙ্গলবার মাদ্রাসা সুপারের ছেলে জাহিদুল ইসলাম তাকে যৌন হয়রানি ও মারধর করে। বিষয়টি মাদ্রাসার মালিককে জানানো হলে গত ৩দিন তাকে মাদ্রাসা এবং ঘরের বাইরে যেতে দেননি তিনি। ওই মাদ্রাসার নিকটে অবস্থিত ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ী বাবুল ভান্ডারি জানান, বৃস্পতিবার রাত সাড়ে ১০ টায় তিনি দোকানের সামনে দাড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ করে পিছন থেকে একটি মেয়ে আমাকে বাঁচান বলে জড়িয়ে ধরে এবং কাঁদতে থাকে। তাৎক্ষনিক আমিসহ ঐ স্থানে উপস্থিত কয়েকজন মুরব্বি তার পরিচয় এবং কি হয়েছে জানতে চাইলে ঐ মেয়ে জানায় যে সে পাশ^বর্তী মাদ্রাসার ছাত্রী। মাদ্রাসার মালিকের ছেলে তাকে শ্লীলতাহানী করে আটকে রেখেছে। বিষয়টির বাস্তবতা অনুধাবন করে আমি স্থানীয় মহিলা কাউন্সিলর ও পুলিশকে জানাই। তিনি আরো বলেন,ঘটনার সাথে সাথে মাদ্রাসার মালিক জাহিদাতুন নেছা ও অভিযুক্ত জাহিদুল দৌড়ে এসে মেয়েটিকে ছিনিয়ে নিতে চাইলেও আমরা অটল থাকায় তা সম্ভব হয়নি। ঘটনার বিষয়ে ঐওয়ার্ডের নব নির্বাচিত (সংরক্ষিত)
মহিলা কাউন্সিলর শাহানাজ পারভীন ডালিম বলেন,এলাকাবাসীর কাছ থেকে সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই এবং মেয়েটিকে উদ্ধার করে আমার বাসায় নিয়ে আসি। পরবর্তীতে পুলিশ গিয়ে আমার বাসা থেকে তাকে থানায় নিয়ে যায়। এব্যাপারে ২৪ নং ওয়ার্ডের নব নির্বাচিত কাউন্সিলর আনিচ শরীফ বলেন,মাদ্রাসাটির বিরুদ্ধে ইতি পূর্বে অনেক অভিযোগ শুনেছি। অভিযোগ গুলো সত্য। আমি আজ বিকালে (গতকাল)
ঐ মাদ্রাসায় যাবো এবং এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করবো। এদিকে গতকাল শুক্রবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযুক্ত জাহিদুলের বাসায় বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার এস আই মহিউদ্দিন (পিপিএম) অভিযান
চালিয়ে ৩৮ পিচ নেশাজাতীয় ইনজেকশনসহ জাহিদুলের মেঝো ভাই আসাদুলকে হাতে নাতে গ্রেফতার করে। এঘটনায় এসআই নজরুল বাদী হয়ে আসাদুলকে আসামী করে মাদক নিযন্ত্রন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি ঐ এলাকায় টপ অফ দ্যা নিউজে পরিনত হয়েছে। এব্যাপারে স্থানীয় সমাজকর্মী ও আপন সংঙ্গীত সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বাবুল হাওলাদার আজিজ বলেন,মাদ্রাসাটিতে র্দীঘ দিন ধরেই চলছে ব্যাপক অনিয়ম। শিশু শিক্ষার্থীদের নির্যাতন,নি¤œ মানের
খাবার পরিবেশনসহ কিছু দিন পূর্বে এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু মাদ্রাসার সুপারের স্বামী পুলিশ ও আবাসিক স্থলে কঠোর গোপনীয়তা বজায় থাকায় এলাকাবাসী কোন ব্যাবস্থা নিতে পারেনি। আমরা এলাকাবাসী তদন্ত পূর্বক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি করছি অন্যথায় জনগনকে সাথে নিয়ে আমরা কঠোর আন্দোলনে মাঠে নামবো। এঘটনায় এলাকা জুড়ে চলছে ব্যাপক উত্তেজনা।
No comments:
Post a Comment