তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার বিপরীতে বিএটিবি’র নতুন কারখানা
মনবীর সোহান: ২০৪০ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করতে সরকারের ঘোষণাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সিগারেট তৈরির নতুন কারখানা করছে বৃটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানি। ঢাকার অদূরে সাভারে ৪২ একর জমিতে চলছে কারখানা তৈরির বিশাল কর্মযজ্ঞ। তামাক বিরোধী আন্দোলনকারীরা বলছেন, এ ঘটনা সরকারের ঘোষণার সাথে সাংঘর্ষিক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালে জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি বাস্তবায়নে ২০৪০ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার ঘোষণা দেন। তামাক পণ্যের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে কর হার বাড়ানো হচ্ছে। কিন্তু সরকারের সে প্রচেষ্টায় বাধ সাধছে বৃটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানি। তামাক চাষের পাশাপাশি সিগারেটের ভোক্তা ও বিক্রি বাড়াতে নতুন কারখানা তৈরি শুরু করেছে তারা। প্রশ্ন উঠেছে বহুজাতিক তামাক পণ্যের ব্যবসায়ীদের এমন তৎপরতা অব্যাহত থাকলে ২০৪০ সাল নাগাদ তামাক নিয়ন্ত্রণ কতটা সম্ভব হবে? তামাকবিরোধী সংগঠন প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, এটি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার সাথে সাংঘর্ষিক এবং এই লক্ষ্য অর্জনে বড় অন্তরায় হবে। তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য ডা. অরূপ রতন চৌধুরী বলেন, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলকে সাথে নিয়ে তড়িত বিএটিবির এই উদ্যোগ থামাতে হবে। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, বাংলাদেশে আর এধরনের সিগারেট কারখানা তৈরির অনুমোদন না দেয়া এবং এটা নীতি হিসেবে ঘোষণা করা দরকার। এ বিষয়ে মাননীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, বিএটি’র নতুন কারখানা তৈরির বিষয়টি আমার জানা ছিলনা, আমি বিষয়টি নিয়ে আমার মন্ত্রণালয় এবং সরকারের মধ্যে আলোচনায় আনবো। বিষয়টি নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য আসলে সেটিকে আইনগতভাবে মোকাবিলা করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
No comments:
Post a Comment