শ^শুরকে জিম্মী করে টিপসই নিয়ে দলিল করার অভিযোগ - ৫২র বাংলা - সংবাদ সবসময়

Recent Topic

Post Top Ad

শ^শুরকে জিম্মী করে টিপসই নিয়ে দলিল করার অভিযোগ



^শুরকে জিম্মী করে টিপসই নিয়ে দলিল করার অভিযোগ

৫২র বাংলা ডক্সে . ^শুরকে জিম্মী করে টিপসই নিয়ে দলিল করার ভোলার লালমোহনে ^শুরকে বেড়াতে নিয়ে জিম্মী করে জমি রেজিষ্ট্রি করে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে মেয়ে জামাতাদের বিরুদ্ধে। বৃদ্ধ ^শুর মোঃ তোফাজ্জল হক (৭০) নিজ হাতে নাম লিখতে পারলেও তাকে দিয়ে জোরপূর্বক ইচ্ছার বিরুদ্ধে টিপসই নিয়ে বাড়িতে বসেই দলিল করে। কাজে লালমোহন সাবঃ রেজিষ্ট্রি অফিসের দুই কর্মকর্তা এক দলিল লেখক সহযোগিতা করে। দাতাকে অফিসে না এনেই গোপনে দলিল রেজিষ্ট্রিও হয় সাবঃ রেজিষ্ট্রারের স্বাক্ষরে এমনই অভিযোগ পাওয়া গেছে। তোফাজ্জল হকের ছেলে থাকলেও মেয়ের জামাতাগণ ফিল্মি কায়দায় ঘটনা ঘটিয়ে দলিল নেয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। জামাতাদের জীম্মিদশা থেকে মুক্ত হয়ে তোফাজ্জল হক ঘটনায় লালমোহন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। তোফাজ্জল হক জানান, গত ১৪ ডিসেম্বর মেয়ে কহিনুর বাড়িতে এসে তাদের বাড়িতে বেড়ানোর কথা বলে তোফাজ্জল হক তার স্ত্রী নুরজাহান বেগমকে নিয়ে যায়। পাশর্^বর্তী ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের চরমোল্লাজী গ্রামে কহিনুরের বাড়িতেই ১৬ ডিসেম্বর রাতে জামাতা নাজিম উদ্দিনসহ আরো কন্যা মনোয়ারা বেগম, হাসিনা বেগম জামাতা শফিউল্যাহ, মহিবুল্যাহ এবং শফিউল্যাহর জামাতা হেমায়েতসহ উপস্থিত হয়। তারা একযোগে তোফাজ্জলকে কতগুলো স্টাম্পে স্বাক্ষর দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। ওই সময় সাবঃ রেজিষ্ট্রি অফিসের পেশকার আব্দুল মান্নান, অফিস সহকারী তরুন কান্তি মজুমদার এবং দলিল লেখক সানাউল্যাহ আজাদও উপস্থিত হয়। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সাবঃ রেজিষ্ট্রি অফিসের এসব কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় তোফাজ্জল হকের মেয়ে জামাতাগণ পূর্ব থেকে লিখে রাখা দলিলে স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেয়। স্বাক্ষর না দিতে চাইলে বস্তা এবং দাড়ালো অস্ত্র সামনে এনে স্বাক্ষর না দিলে মেরে বস্তা ভরে ফেলে দিবে বলে হুমকি দেয়। তবুও স্বাক্ষর দিতে না চাইলে এক পর্যায়ে তোফাজ্জলকে ধস্তাধস্তি করে ইচ্ছার বিরুদ্ধে দলিলে টিপসই নেয় তারা। এসময় তোফাজ্জলের চিৎকার শুনে তার স্ত্রী নুরজাহান ছুটে আসতে চাইলে তাকে ঘরের অন্য একটি রুমে আটকে রাখা হয়। পরের দিন ১৭ ডিসেম্বর দলিল লেখক ছানাউল্যাহ আজাদ সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের ওই কর্মকর্তাদের সহায়তায় দলিল সম্পাদন করে ফেলে। দলিল নং ৬৬০১। দলিলে লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের চরঅন্নদা প্রসাদ মৌজার ২৭৯ নং খতিয়ানের ৭৩১৯, ৭৩৩৮, ৭৩৫৫, ৭৪৪৩, ৭৫৭৫, ৭৫৮০ নং দাগের মোট একর ১৪ শতাংশ জমি রয়েছে। ওই দলিল সাব রেজিষ্ট্রি অফিসার ফয়েজুল্যাহ স্বাক্ষরও করেন। দাতা সরাসরি উপস্থিত না হলেও কি করে সাব: রেজিষ্ট্রি অফিসার দলিল অনুমোদন করলেন তা নিয়ে চলছে আলোচনা। দলিল লেখক ছানাউল্যাহ আজাদের বিরুদ্ধে এর আগেও নয়ানীগ্রামের ডাঃ নিজাম উদ্দিন ফারুকীও জাল দলিলের ঘটনায় মামলা করেন। ওই মামলায় জেলও খাটেন। তার আপন চাচা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি সফিউল্যাহ পাটোয়ারী।এ ব্যাপারে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শামছুল আরিফের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, অভিযোগ পেয়েছি। আমি জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ প্রেরণ করেছি। জেলা সাবঃ রেজিষ্ট্রি অফিসের মাধ্যমে ঘটনার তদন্ত হবে। লালমোহন সাবরেজিষ্ট্রি অফিসার মোঃ ফয়েজ উল্যাহর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, দাতা উপস্থিত না থাকলে দলিল হয় না। এখন অফিসের কাজে ব্যস্ত আছেন বলে পরে আসলে কিভাবে দলিল হয়েছে জানাবেন বলে তিনি জানান। অপরদিকে পেশকার আব্দুল মান্নান দলিল লেখক ছানাউল্যাহ আজাদ জানান, বাদী অফিসে এসে দলিল দিয়েছে। তারা কেউ বাড়িতে যাননি। জামাতা শফিউল্যাহর কাছে জানতে চাইলে তিনিই কিছুই জানেন না বলে ফোন কেটে দেন।

No comments:

Post a Comment

Recent Movies

Post Top Ad