বরিশালের সামাজিক বনায়ন এখন দৃষ্টি নন্দন বরিশাল - ৫২র বাংলা - সংবাদ সবসময়

Recent Topic

Post Top Ad

বরিশালের সামাজিক বনায়ন এখন দৃষ্টি নন্দন বরিশাল



৫২র বাংলা রিপো©ট .বরিশালের সামাজিক বনায়ন এখন  দৃষ্টি নন্দন  বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন হিরণপয়েন্ট থেকে দিনার জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত সড়ক ও জনপথে  ভোলা লিংক রোডস্থ ৫.০ কিঃ মিঃ সামাজিক বনাযন কার্যক্রম।জীববৈচিত্রে ভরপুর ফলদ, বনজ, ঔষধি আর শোভাবর্ধনকারী প্রজাতির সমন্বয়ে সৃজিত চোখ জুড়ানো, মন মাতানো, দৃষ্টিনন্দন স্ট্রিপ বাগানটি। চৈত্রের প্রচন্ড রোদে যেখানে ছাতা মাথায় ঘর্মাক্ত, ক্লান্ত পথিকের বিচরণ দেখেছি, সড়কের দুধার ছিল নগ্ন, বৃক্ষহীন ও বালুকাময়। প্রচন্ড বর্ষায় সড়কের দুধারে ভূমিক্ষয় হয়ে সড়ক ভেঙে যেত। আজ সেখানের চিত্র ভিন্নরূপ। পাখিডাকা, ছায়াঢাকা, সবুজের মেলা যেন হাতছানি দিয়ে ক্লান্ত পথিকেরে বিশ্রামের আহ্বান জানাচ্ছে।এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য রেঞ্জ কর্মকর্তা, সদর রেঞ্জ, সামাজিক বন বিভাগ, বরিশালের দপ্তরে গেলে রেঞ্জ কর্মকর্তা তাপস কুমার সরকার, (ফরেস্ট রেঞ্জার) জানান যে, ২০১৩-২০১৪ আর্থিক সালে ক্লাইমেট রিজিলিয়েন্ট পার্টিসিপেটরী এফরেস্টেশন এ্যান্ড রিফরেস্টেশন  প্রকল্পের আওতায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে আলোচ্য সড়ক  ও জনপথে ১৫০০০ (পনের হাজার)টি বনজ, ফলদ, ঔষধি ও সৌন্দর্য্যবর্ধক বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়। এর মধ্যে মেহগনি, রেন্ট্রি, রাজকড়ই, দেশীকরই, আকাশমনি, শিশু, ইপিলইপিল, বকাইন, তেতুল, গামার, বট, আম, জাম, পেয়ারা, বেল, কয়েতবেল, কাঁঠাল,বাতাবীলেবু, জলপাই, বিলেতীগাব, অর্জুন, আমলকি, হরিতকি, বহেড়া, নিম, লম্বু, বাবলা, উলটকম্বল, তাল, শিমূল, কদম,  কাঞ্চন, কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, জারুল, সোনালু, বার্মিজতুলা, ঝাউ, বকুল, কাঞ্জল ইত্যাদি অন্যতম। বাগানটি প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী অংশীদারিত্বের ভিত্তিতেই সৃজন করা হয়েছে। উপকারভোগী সদস্যের সংখ্যা ১০৫জন, উপকারভোগী সদস্যের মধ্য  থেকে ১৫জন ওয়াচার মাসিক ৬০০০/- ভাতায় বাগানটি রক্ষণাবেক্ষণে নিয়োজিত ছিল। নির্দিষ্ট মেয়াদান্তে বাগান কর্তন পরবর্তী প্রাপ্ত আয়ের ৫৫ ভাগ উপকারভোগী সদস্যগণ প্রাপ্ত হবেন। ইতিমধ্যেই বাগানটি, প্রধান বন সংরক্ষক, বাংলাদেশ, প্রকল্প পরিচালক, সি.আর.পি.এ.আর.পি,  বন সংরক্ষক, কোষ্টাল সার্কেলসহ বিশ্বব্যাংক ও ফরেষ্ট্রি মাষ্টার প্লানের প্রতিনিধিগণ পরিদর্শন করে সফল বাগান হিসেবে মন্তব্য করেছেন। স্থানীয় জনগণ, উপকারভোগী সদস্য, বন বিভাগের কর্মকর্তা/ কর্মচারী সকলের সহায়তাই বাগানটি একটি মডেল বাগানে রূপ নিয়েছে। ২০১৩-২০১৪ ও ২০১৪-২০১৫ আর্থিক সালে অত্র সামাজিক বন  বিভাগের আওতায় ১০টি উপজেলায় ১৮২ কিঃ মিঃ স্ট্রিপ বাগান সৃজন করা হয়েছে। প্রতিটি বাগানেই ফলদ, বনজ, ঔষধি ও সৌন্দর্য্যবর্ধক বৃক্ষের চারাসহ তালের চারা রোপণ করা হয়েছে। সদর উপজেলার দায়িত্বে নিয়োজিত( ফরেস্টার) মোঃ গাজী আবুল বাশার জানান যে, প্রতিটি বাগানেই বন বিভাগ ব্যাপকভাবে তালের চারা/বীজ রোপণ করেছে। যা ভবিষ্যতে উপকূলবাসীকে ঝড়ঝঞ্ঝা ও বজ্রপাতের হাত থেকে রক্ষাসহ অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, ভূমি ক্ষয়রোধ, কার্বন নিঃসরণ প্রতিরোধ ও সংরক্ষণসহ জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, ঝড় ঝঞ্ঝা ও বজ্রপাত প্রতিরোধসহ আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে বাগানটি ভবিষ্যতে ব্যাপক অবদান রাখবে বলে সচেতন মহলের ধারণা ।

No comments:

Post a Comment

Recent Movies

Post Top Ad