বায়ান্নোর বাংলা ডেস্ক . গত ৩০ জুলাই শেষ হয়েছে বিসিসি নির্বাচন। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আ’লীগের প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি অধিকাংশ কাউন্সিলর পদে আ’লীগ প্রার্থীরা জয় লাভ করেছেন। ফলাফল ঘোষনার পর থেকেই নগরীর ১১ নং ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন স্থানে চলছে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা। ভাংচুর হচ্ছে ঘরবাড়ি,ব্যাবসা প্রতিষ্টান। আহত হচ্ছেন নারী পুরুষ। এরই ধারাবাহিকতায়
পরাজিত শক্তির হাতে আক্রমনের শিকার হচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের আশির্বাদপুস্ট শিক্ষা প্রতিষ্টান। গতকাল সরজমিনে গিয়ে দেখাযায়,নগরীর ৫ নং ওয়ার্ড পলাশপুরের ৭ নং গলির চৌমাথায় বিদ্যুতের পিলারের সাথে সাটানো একটি মাদ্রাসার সাইন বোর্ড ভেঙ্গে কুপিয়েছে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা।
সাইন বোর্ডটি ঐএলাকার রহমানিয়া ক্বেরাতুল কোরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার যার প্রতিষ্টাতা পরিচালক নুরুল ইসলাম ফিরোজী একজন আ’লীগ সমর্থক। নির্বাচন পূর্ববর্তীতে
নৌকা মার্কার প্রচারনায় তিনি ছিলেন অগ্রগামী। আর এই বিষয়টি চক্ষুশুল হয়ে দাড়িয়েছে পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের। তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে সাইন বোর্ড ভাংচুরের মধ্য দিয়ে। ঘটনার পরবর্তীতে গতকাল দিনভর আতংকিত ছিলো মাদ্রাসায় অবস্থানরত শতাধিক এতিম শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ।
উল্লেখ্য,কোন ধরনের সরকারী অনুদান ছাড়াই ৪ বছর পূর্বে প্রতিষ্ঠিত এই ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্টান ও এতিমখানাটি চলছিল সম্পূর্ন ব্যাক্তিগত অনুদানে। মাদ্রাসাটিতে রয়েছে তীব্র আবাসিক সংকট। এনিয়ে বিভিন্ন সময় স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে বিষয়টি নজরে পরে দক্ষিন বাংলার রাজনৈতিক অভিভাবক স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ও পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক (মন্ত্রী)
আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি’র। তিনি বিষয়টির ব্যাস্তবতা অনুধাবন করে কোন ধরনের প্রটোকল ছারাই গত মে মাসে এতিমদের দূরবস্থা দেখতে হাজির হন হাজির হন উক্ত মাদ্রাসায়। এসময় তার সাথে ছিলেন নবনির্বাচিত মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ,এ্যাড.তালুকদার মো: ইউনুচ,বরিশাল মহানগর আ’লীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাড.জাহাঙ্গীর হোসেন,বর্তমান কোতয়ালী মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলামসহ প্রশাসন ও রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গ।
ঐসময় মন্ত্রী এতিমদের দুর্দশা দেখে তাদের পাশে^ থাকার
আশ^াস দেন এবং মাদ্রাসার জন্য তাৎক্ষনিক ভাবে জমি দান করেন যাতে করে ঐ মাদ্রাসায় অবস্থানরত এতিম শিশুরা মাথা গোজার ঠাই পান। বিসিসি নির্বাচনের তারিখ ঘোষনার পর থেকেই প্রতিদিন নির্বাচনি প্রচারনার পাশাপাশি দিনভর কোরআনখানী ও দোয়া মোনাজাত চলতো আ’লীগ প্রার্থীর জয়ের প্রত্যাশায়। আর এ কারনেই মাদ্রাসার উপর এই নগ্ন হামলা বলে জানান,মাদ্রাসার পরিচালক নুরুল ইসলাম ফিরোজী। তিনি আরো বলেন,নির্বাচন পরবর্তীতে সাইন বোর্ড ভাংচুরের ঘটনায় আমি ও এতিম শিশুরা ভয়ে দিন কাটাচ্ছি। আমি প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি যাতে এঘটনায় দায়ী ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হয়।
Post Top Ad
বরিশালে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার শিকার ধর্মীয় প্রতিষ্টান
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment