
শামীম আহমেদ, বরিশাল ব্যুরো . বরিশালে চতুর্থ দিনেও ঢাকায় বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী মৃত্যুর বিচার ও নিরাপদ সড়ক সহ নয় দফা দাবি আদায়ের লক্ষে বরিশালে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। দেশ ব্যাপি চলমান আন্দোলনের অংশ হিসাবে শনিবার বেলা ১০টায় নগরের চৌমাথা এলাকার ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে এ বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। এসময় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত ছাত্র-ছাত্রীরা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে । ন্যায় বিচার চেয়ে স্লোগান দেয় শিক্ষাথীরা। শিক্ষার্থীরা এসময় বেশ কিছু গাড়ীর লাইসেন্স দেখতে চায় তারা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন যান-বাহন সহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী পুলিশের গাড়িও শিক্ষার্থীদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি কাগজ ও লাইসেন্স না থাকার কারনে তারা সেসব গাড়িতে ভূয়া লেখে দিয়ে বিভিন্ন শ্লোগান প্রদর্শন করে উর্ধ্বতোন পুলিশ কর্মকর্তাদের সামনে। এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও সড়ক অবরোধের মুখে রুপাতলী-ঝালকাঠীসহ দুরপাল্লার সকল যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে অভ্যন্তরীন সকল রুটের যাত্রীবাহী গাড়ি চলাচল রয়েছে স্বাভাবিক। বিক্ষুদ্ব শিক্ষার্থীরা চৌমাথা এলাকায় কয়েকটি হলুদ ব্যাটারী চালিত গাড়ি ভাংচুর করে। পুলিশের ডিসি ডিবি মোয়াজ্জেম হোসেন ভূইয়া, কোতয়ালী মডেল থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার শাহনাজ পারভিন,অফিসার ইনচার্জ নুরুল ইসলাম সহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকতা যৌথভাবে ধয্য সহকারে শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্ঠা করে প্রথম প্রর্যায়ে ব্যার্থ হয়।পরবর্তী সময়ে পুলিশ তাদের ভদ্র আচরন থেকে একটু সরে এসে বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড দেখেন ও কয়েক জনের আইডি কার্ড রেখে দেন তাদের কাছে। চৌমাথা সড়ক অবরোধের কারনে রুপাতলী ও নথুল্লাবাদ থেকে আসা শত শত যানবাহন আটকা পরে। দূভোগ পোহাতে হয়েছে অটো ও মাহিন্দ্রা যোগে যাতায়াত করা যাত্রীদের। বিক্ষোভ চলাকালে বেশ কিছু যানবাহন বিক্ষোভস্থল থেকে অতিক্রম করার চেষ্টা করলে তাতে বাধা দেয় শিক্ষার্থীরা, তবে এ্যাম্বুলেন্সসহ গুরুত্বপূর্ণ যানবাহন শিক্ষার্থীরাই পার করে দেয়। দুপুর ১২টার দিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে অবরোধস্থলে ছুটে আসেন মহানগর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সাইদুর রহমান রিন্টু। তিনিও এসময় শিক্ষার্থীদের বুজাতে চেষ্ঠা করেন তিনি শিক্ষার্থীদের বলেন সরকার শিক্ষার্থীদের দাবী মেনে নিয়েছে শুধু এখন আইন পাশের অপেক্ষায় রয়েছে।পড়ে বিক্ষুব্দ শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ তুলে নিয়ে যে যারমত করে চলে যায়। আন্দোলনরত বরিশাল সরকারী মহিলা কলেজ সহ বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা বলেন, সহপাঠীদের মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত চালক ও হেলপারের শাস্তি সহ নিরাপদ সড়কের দাবিতে আমাদের এ আন্দোলন। সুনির্দিষ্ট আশ্বাস বা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা ও নিরাপদ সড়ক এখন সময়ের দাবি। তারা এসময় সড়কে বসে ও শুয়ে বিভিন্ন প্লেকার্ড ব্যবহার করে নানা ধরনের শ্লোগান দিতে থাকে। শিক্ষার্থীরা বরিশাল সড়কে চলাচলরত যানবাহনের চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স,নগরের বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং করা, অটোরিকশা ও মাহিন্দ্রার (থ্রি-হুইলার) স্ট্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দাবি তোলেন। এসময় বিক্ষোভ-মিছিল ও মানববন্ধনে সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ, অমৃত লাল দে কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি মডেল কলেজ, পলিটেকনিক, সরকারী মহিলা কলেজ, বরিশাল সরকারী জিলা স্কুল , উদায়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়েসহ সহ নগরীর বেশ কিছু স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা সহ বরিশাল জেলা শাখার ছাত্র ইউনিয়নের সদস্যরা অংশ নেয়।

No comments:
Post a Comment