দক্ষিণাঞ্চলের মানুষদের ঈদে ঘরে ফেরায় বিপদ : প্রানহানীর আশংকা - ৫২র বাংলা - সংবাদ সবসময়

Recent Topic

Post Top Ad

দক্ষিণাঞ্চলের মানুষদের ঈদে ঘরে ফেরায় বিপদ : প্রানহানীর আশংকা



বায়ান্নোর বাংলা ডেক্স. পবিত্র রমজানের আজ দ্বিতীয়দিন। মাসব্যাপী রোজা শেষে ঈদুল ফিতর, মুসলিমদের অন্যতম বড় উৎসব। এসময় টানা বন্ধ থাকায় নাড়ির টানে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় কোটি মানুষ ঢাকা থেকে আসবে। আর অঞ্চলের  মানুষের বাড়ি ফেরার সহজ অন্যতম ভরসা নদীপথ। এই সুযোগে মুনাফাখোররা পুরনো, ভাঙা-চোরা লক্কর-ঝক্কর লঞ্চ মেরামত করছেন। রঙের প্রলেপ দিয়ে  যৌবন দিতে চেষ্টা করছেন ঝুঁকিপূর্ণ অকেজ লঞ্চগুলোকে। মূলত ফিটনেস সার্টিফিকেট পেতে বুড়িগঙ্গা তীরে লঞ্চে রং করার ধুম পড়েছে তবে এবার ভরা বর্ষা মৌসুমে ঈদ হওয়ায় এসব লঞ্চযাত্রায় ঝুঁকি দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন- যাত্রীরা এসব লঞ্চেই বাড়ি যেতে বাধ্য হবেন। ফলে নিরাপত্তাহীনতা ছাড়াও প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়বে। সরেজমিনে দেখা গেছে- বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে গড়ে ওঠা চরকালীগঞ্জ চরমিরেরবাগ এলাকার ডকইয়ার্ডগুলোতে অনবরত টুং টাং শব্দ। সেখানে যাত্রীবাহী বড় কার্গোবাহী লঞ্চের মেরামত চলছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। কেউ ওয়েলডিং আবার, কেউ রং করাতে ব্যস্ত সদরঘাটের অন্তত ১০টি ডকইয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে পুরনো নৌ-যানে মেরামতের ধুম চলছে। কেরানীগঞ্জের তেলঘাট থেকে মিরেরবাগ পর্যন্ত ৩৭টির মতো ডকইয়ার্ডেই কোনো না কোনো পুরনো লঞ্চে রং লাগানো মেরামত করা হচ্ছে। ফিটনেসহীন লঞ্চগুলোকে রং করে নতুনে বদলে দেয়া হচ্ছে। এর সঙ্গেই জোড়া দেয়া হচ্ছে ভেঙে যাওয়া লঞ্চের বিভিন্ন অংশ। মেঝে কিংবা কার্নিশে লাগানো হচ্ছে লোহার পাত। পরিবর্তন করা হচ্ছে ইন্টেরিয়র ডিজাইনে।এমনকি বুড়িগঙ্গার পাড়ে কেরানীগঞ্জের তেলঘাট কেরোসিনপট্টি অংশের ইয়ার্ডে বেশ কয়েকটি লঞ্চের নিচের তলির অংশও মেরামত করতে দেখা গেছে। ডকইয়ার্ড শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের আগে ফিটনেস লাইসেন্স নিতে হবে। এজন্য ত্রুটিপূর্ণ লঞ্চগুলো দ্রুত নামমাত্র সংস্কার করা হচ্ছে কেরানীগঞ্জের চরকালীগঞ্জ তেলঘাট, খেজুরবাগ, হাসনাবাদ এলাকার ডকইয়ার্ডে অন্তত ৫০টি লঞ্চ মেরামত রং করতে দেখা গেছে। লক্কর-ঝক্কর ফিটনেসবিহীন লঞ্চের এই সংখ্যা শতাধিকেরও বেশি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তেলঘাট এলাকার ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি বলেন, ‘সপ্তাহখানেক হলো লঞ্চ মেরামতে গতি বেড়েছে। বড় বড় ত্রুটিও ঢেকে দেয়া হচ্ছে রঙের প্রলেপে।তেলঘাটের পারজোয়ার ডকইয়ার্ডের মালিক ছদর খান জানান, যেসব ডকইয়ার্ডে পুরনো, ফিটনেসবিহীন লঞ্চ মেরামত রং করা হচ্ছে, এগুলোর বেশিরভাগই অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে। অভিযোগ দেয়ার পরও অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না। ফলে আমাদের মতো বৈধ ডকইয়ার্ড কারখানাকেও মাঝে মাঝে অপকর্মের ভাগ নিতে হয় বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ যুগ্ম-পরিচালক জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘লক্কর-ঝক্কর লঞ্চ নদীতে নামতে দেয়া হবে না। ঈদের ১০ দিন আগে থেকেই বেশ কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ আদালত থাকবে। ্যাব, পুলিশ,আনসারসহ পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে।তিনি আরও বলেন, ‘ফিটনেসবিহীন ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চ ঠেকানো ছাড়াও অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে কোনো লঞ্চ যাতে চলতে না পারে, সেজন্য এবার কঠোর নজরদারি করা হবে।

No comments:

Post a Comment

Recent Movies

Post Top Ad