বরিশাল- ঢাকা নৌ-রুটের লঞ্চের টিকিট দালালদের দখলে - ৫২র বাংলা - সংবাদ সবসময়

Recent Topic

Post Top Ad

বরিশাল- ঢাকা নৌ-রুটের লঞ্চের টিকিট দালালদের দখলে

বরিশাল- ঢাকা নৌ-রুটের লঞ্চের টিকিট দালালদের দখলে
৫২র বাংলা রিপো©ট . ঢাকা-বরিশাল নৌ-রুটের লঞ্চের কেবিনের টিকিট নিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কেবিনের টিকিট দালাল অসাধু লঞ্চ কর্মচারীদের হাতে চলে গেছে। লঞ্চ মালিকরা ইচ্ছেমতো আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাংখী প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কেবিনের টিকিট দিলেও সাধারন মানুষ জিম্মি এসব টিকিট কালোবাজালীর হাতে। কেবিনের নির্ধারিত মূল্যের কয়েকগুণ বেশি দিলে সাধারন মানুষের ভাগ্যে জুটে লঞ্চের কেবিনের টিকিট।লঞ্চের কেবিনের টিকিট পেতে হলেও যোগ্যতা লাগে যোগ্যতা না থাকলে টিকিট মিলবে না বলে জানান যাত্রীরা। নগরীর প্রভাবশালী ব্যক্তি কিংবা তার আত্মীয়, প্রশাসনের কর্মকর্তা, না হলে লঞ্চ মালিকদের আত্মীয় হলে মিলে লঞ্চের টিকিট। বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দাবি-যে সংখ্যায় যাত্রী রয়েছে সে অনুযায়ী কেবিন না থাকায় সবাইকে টিকিট দেয়া যাচ্ছে না। যাত্রীদের দাবি মালিক পক্ষের অবৈধ রোটেশন প্রথার কারণেই লঞ্চের টিকিট নিয়ে দালাল লঞ্চ কর্মচারীরা যাত্রীদের জিম্মি করেছে। সরকারিভাবে কোন মনিটরিং না থাকায় লঞ্চের টিকিট যাচ্ছে দালালদের হাতে। ফলে কোনভাবেই টিকিট পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন সাধারন যাত্রীরা। টিকিট কালোবাজারীদের সাথে লঞ্চ মালিক, প্রশাসন, প্রভাবশালী ব্যক্তি সাথে সম্পর্ক রেখেই দীর্ঘদিন পর্যন্ত ব্যবসায় চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবী দালালদের। তবে দালালদের বিরুদ্ধে সব সময় নিরব ভূমিকায় দেখা গেছে নৌ পুলিশকে। নৌ পুলিশের সামনেই এসব দালালরা বীরদর্পে তাদের ব্যবসায় চালিয়ে যাচ্ছে দীর্ঘদিন পর্যন্ত। সূত্রমতে, রাজধানী শহর ঢাকার সাথে দখিনের মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম নৌপথ। বিশেষ করে অধিকাংশ অসুস্থ রোগী সড়ক এর পরিবর্তে নৌ পথে বরিশাল থেকে ঢাকায় যাতায়াত করে থাকে। কারণেই নৌপথের লঞ্চের টিকিট নিয়ে সক্রিয় রয়েছে একটি শক্তিশালী দালাল চক্র। ঢাকা-বরিশাল নৌ রুটে চলাচলকারী লঞ্চগুলো হলোমেসার্স রাবেয়া শিপিং কোম্পানির পারবাবত। মেসার্স সুন্দরবন নেভিগেশন কোম্পানির সুন্দরবন। মেসার্স স্টার নেভিগেশন কোম্পানির সুরভী। টিপু কোম্পানির এমভি টিপু এবং কীর্তনখোল। এসব লঞ্চের মধ্যে পারাবাত লঞ্চের ৮০ ভাগ লঞ্চের কেবিনই দালালদের হাতে চলে যায় লঞ্চের কেরানি, বুকিং কাউন্টারের বুকিং ক্লার্ক, লঞ্চ ম্যানেজার, সুপারভাইজার এর মাধ্যমে। বাকী কেবিনগুলো প্রশাসন, প্রভাবশালী ব্যক্তি মালিক পক্ষের লোকজন পাচ্ছেন। টিপু, ফারহান লঞ্চের কেবিনও একইভাবে দালালদের হাতে চলে যায়। এসব কেবিন দুই থেকে তিন গুন দামে দালালদের কাছ থেকে কিনে নিতে হয় সাধারন যাত্রীদের। এছাড়া সুন্দরবন, সুরভী কীর্তনখোলা লঞ্চের কেবিনও অনেক সময় মিলে দালালদের কাছ থেকে। লঞ্চ স্টাফদের যোগসাজসে প্রথম শ্রেণির লঞ্চের টিকিটও পাওয়া যায় দালালদের কাছ থেকে। মাঝে মাঝে সরকারি বেসরকারি কোঠার কেবিনগুলোও কর্মচারীদের সাথে যোগসাজসে কিনে নেয় দালালরা। আবারও অনেক মালিকও দালালদের কেবিন এর টিকিট দিয়ে থাকেন। দালালদের দাবী বর্ষা মৌসুম, এসএসসি এইচএসসি পরীক্ষার সময় লঞ্চের কেবিন এর চাহিদা থাকে কম। ওই সময় তারা লঞ্চের কেবিন বিক্রি করে লঞ্চ মালিকদের সহায়তা করে থাকেন। কারণেই মূলত মালিক পক্ষ তাদের লঞ্চের কেবিন দিয়ে থাকেন। তবে তাদের এসব দাবী অস্বীকার করেছেন লঞ্চ মালিক পক্ষ। সূত্রমতে, লঞ্চের টিকিট কালোবাজারিদের মধ্যে অন্যতম লেদু (দালাল) তিনিই মূলত লঞ্চের টিকিট কালোবাজারি শুরু করেছেন। এরপর কালোবাজারির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন দালাল হাসেম, পারাবাত লঞ্চে স্টাফ সাগর, পারাবাত লঞ্চের কলম্যান জসিম, পারাবাত লঞ্চের কলম্যান সেলিম, পারাবাত লঞ্চের কলম্যান বসির, কালামখান লঞ্চের কলম্যান আলাউদ্দিন, পারাবাত লঞ্চের কলম্যান ফজলা, পারাবাত লঞ্চের কলম্যান খোকন, টিপু লঞ্চের কলম্যান দুলাল, টিপু লঞ্চের কলম্যান খালেক, কালামখান লঞ্চের কলম্যান মোশাররফ, সুন্দরবন লঞ্চের কলম্যান জাহিদ, কবির, টিপু লঞ্চের কলম্যান জাহাঙ্গীর ইমামসহ আরও অনেকে। তবে লেদু, হাসেম, জসিম সেলিমই বর্তমানে চক্রটা নিয়ন্ত্রণ করছে  তারা সবাইকে খুশি করেই লঞ্চ ঘাটে ব্যবসায় চালিয়ে যাচ্ছেন। সূত্রটি আরও জানায়, এরা মূলত টিকিট কালোবাজারি করে বরিশাল লঞ্চ টার্মিনাল এলাকায় বসে। এদের কাছে কাউকে পাঠিয়ে দিলে পাওয়া যায় লঞ্চের কাঙ্খিত টিকিট। লঞ্চ কর্তৃপক্ষ সিঙ্গেল কেবিনের টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করেছে ৯শ- হাজার টাকা আর ডাবল ১৮শ- হাজার টাকা। কিন্তু সে টিকিট কালোবাজারি দালালদের কাছ থেকে বর্তমানে সিঙ্গেল কেবিন হাজার থেকে হাজার টাকা ডাবল হাজার থেকে সাড়ে হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে। নগরীর কাউনিয়া এলাকার বাসিন্দা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম ফজলুল হক এভিনিউ এলাকায় মেসার্স সুন্দরবন নেভিগেশন কোম্পানির টিকিট বুকিং কাউন্টারের সামনে টিকিট প্রত্যাশী যাত্রীকে বলেন, ‘লঞ্চের কেবিনের টিকিট পেতে হলেও যোগ্যতা লাগে যোগ্যতা না থাকলে টিকিট মিলবে না বলে জানান তিনি। নগরীর প্রভাবশালী ব্যক্তি কিংবা তার আত্মীয়, প্রশাসনের কর্মকর্তা তা না হলে লঞ্চ মালিকদের আত্মীয় হলে মিলে লঞ্চের টিকিট। রবিবার কেবিনের একটি টিকিট হন্যে হয়ে খঁজছিলেন লঞ্চ টার্মিনালে আসা বরিশালের রেজাউল নামের এক ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, ‘বরিশাল থেকে স্বজনরা ঢাকায় যাবেন। তাই কেবিনের টিকিটের জন্য প্রায় দিন আগে থেকে কাউন্টারে কাউন্টারে ঘুরছি। কিন্তু টিকিট পাইনি। তিনি আরো বলেন, ‘কালোবাজারী হাসেমের কাছে ডাবল এবং সিঙ্গেল দুই শ্রেণির কেবিনের টিকিটই পেয়েছি। কিন্তু একটি সিঙ্গেল কেবিনের টিকিটের দাম চেয়েছে হাজার টাকা। এদিকে ঢাকা-বরিশাল নৌ রুটে রোটেশন পদ্ধতির বিষয়ে রয়েছে যাত্রীদের বিস্তর অভিযোগ। পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন সময় মানববন্ধন থেকে শুরু করে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হলেও বিআইডবি¬উটিএ- সমস্যা সমাধানে কোন পদক্ষেপ নেয়নি বলে যাত্রীরার অভিযোগ করেন। লঞ্চ মালিক সমিতির এক সদস্য জানান, রোটেশন পদ্ধতি সম্পূর্ণ বিআইডবিব্লউটিএ ব্যাপার। যদি তারা আমাদের ডাকে তবে অবশ্যই আমরা তাদের সাথে বসে সমস্যা সমাধান করবো। প্রসঙ্গে বরিশাল জোনের বিআইডবি¬উটিএ-এর উপ-পরিচালক আজম হোসেন মিঠু বলেন, কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিষয়ে বরিশাল নৌ পুলিশের এএসপি মোতালেব হোসেন জানান, দালালের বিরুদ্ধে নৌ পুলিশ সোচ্চার রয়েছে


No comments:

Post a Comment

Recent Movies

Post Top Ad