সুন্দরবনের
দস্যু “বড় ভাই, ভাই ভাই ও সুমন” বাহিনীর ৩৮ সদস্যের আত্মসমর্পন
মনবীর সোহান . সুন্দরবনের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সক্রিয় জলদস্যু
“বড় ভাই, ভাই ভাই ও সুমন” বাহিনীর ৩৮ সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পন করেছে।
এরফলে ২১ মাসে ছোট-বড় মোট ১৭ টি জলদস্যু বাহিনী র্যা ব-৮ এর নিকট আত্মসমর্পন
করলো। মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি ) বেলা পৌনে ৪ টায় বরিশাল নগরের রুপাতলীস্থ র্যা ব-৮
এর সদর দপ্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের উপস্থিতিতে “বড় ভাই,
ভাই ভাই ও সুমন” বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পন করেন। এরআগে সোমবার দিবাগত
গভীর রাত থেকে আজ মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত সুন্দরবনের চাঁদপাই
রেঞ্জে র্যা বের বিশেষ অভিযানে কুখ্যাত জলদস্যু বড় ভাই বাহিনীর প্রধান মোঃ আব্দুল
ওয়াহিদ মোল্লা, ভাই ভাই বাহিনীর প্রধান মোঃ ফারুক মোড়ল ও সুমন বাহিনীর প্রধান
মোঃ জামাল শরিফ সুমনসহ ৩৮ সদস্য আত্মসমর্পন করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যা ব
-৮ এর উপ-পরিচালক মেজর সোহেল রানা প্রিন্স। আত্মসমর্পন কারীদের মধ্যে বড়ভাই বাহিনীর
প্রধান মোঃ আব্দুল ওয়াহিদ মোল্লা (৪৯), বাচ্চু শেখ (৩৫), মাহামুদ হাসান (২৩),
মোঃ রফিকুল ইসলাম (৪২), ওলি ইজারাদার (৩১), গোলাম মাওলা (৫০), অলিয়ার শেখ
(৫০), বরকত আলী শেখ (৫০), রেজাউল মোল্লা (৪৫), রিপন শেখ (৩১), খালিদ ইজারাদার
(৪০), মিকাইল ইজারাদার (৩১), বায়েজিদ মোল্লা (৩৪), লিটন আলী ইজারাদার (৩১), মাজেদ
ইজারাদার (৫০), এসএম মেহেদি হাসান মিলন (৩১), আব্দুল মজিদ ভাঙ্গী (৫৫), ইউনুস
আলী (৩২) সহ ১৮ জন রয়েছে। এদিকে ভাই ভাই বাহিনীর প্রধান ফারুক মোড়ল (৩০),
রেজাউল সানা (৫০), অনিমেষ বাড়ৈ (২৪), কুতুব উদ্দিন গাজী (৩০), ইমদাদুল হক
(২৮), আলমগীর হাওলাদার (৩২), আলামিন হাওলাদার (৩০), হাবিবুর রহমান সিকদার (৩২)
সহ ৮ সদস্য আত্মসমর্পন করেছে। অপরদিকে সুমন বাহিনীর প্রধান জামাল শরিফ সুমন
(৪২), কাইয়ুম জোমাদ্দার
(২৯),আলামিন মৃধা (৪০), জামাল তালুকদার (৩৫), রাজা ফরাজি (২৫), আলামিন খা (২৫),
মোঃ রফিকুল (৪১), আকরাম হোসেন গাজী (৩১), জুয়েল রানা (৩০), আবুল কালাম শেখ
(৬০), মিলন হাওলাদার (২২), ছমির তালুকদার (৪৫) সহ ১২ সদস্য আত্মসমর্পন করেছে।
আত্মসমর্পন কারীরা সকলেই খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার বাসিন্দা। এদের কাছ
থেকে টি দেশী-বিদেশী ৩৮ টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং সকল প্রকার অস্ত্রের ২ হাজার ৯৬৯
রাউন্ড বিভিন্ন ধরনের গোলাবাররুদ উদ্ধার করা হয়। যারমধ্যে ১৪ টি বিদেশী
একনালা বন্দুক, ৯ টি বিদেশী দোনালা বন্দুক, ৩ টি পয়েন্ট ২২ বোর বিদেশী
রাইফেল, ৬ টি বিদেশী
এয়ারগান, ৫ টি পাইপ গান ও ১ টি বিদেশি কাটা রাইফেল রয়েছে। মেজর সোহেল রানা
প্রিন্স জানান, “বড় ভাই, ভাই ভাই ও সুমন” বাহিনী সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের
মংলা, শ্যালাগাং, হারবাড়িয়া, ভদ্রা, সুন্দরবনের পশুর নদী এবং বঙ্গোপসাগর
সংলগ্ন উপকূলবর্তী অঞ্চলে সক্রিয় জলদস্যু বাহিনী। এসব অঞ্চলের বনজীবি ও জলজীবি
সাধারণ মানুষ তাদের টার্গেট ছিলো। বিভিন্ন জলদস্যু/ডাকাত বাহিনী র্যাীব এর
হাতে নিস্ক্রিয় হওয়ার পাশাপাশি, র্যা ব-৮ এর ক্রমাগত একাধিক কঠোর অভিযানের কারণে
কোনঠাসা হয়ে আতংকিত হয়ে পড়ায় তারা অনুধাবন করে অধিক অর্থ উপার্জন ও কুপ্ররোচনার
স্বীকার হয়ে তারা ভুল পথে পরিচালিত হয়েছিল। ১৯৯৫ সালে বড়ভাই বাহিনী ও ২০০৮ সাল
থেকে ভাইভাই বাহিনী ও ২০১০ সালে সুমন বাহিনী আত্মসমর্পনকারী প্রধানদের নেতৃত্বে
সুন্দরবনে বিপুল বিক্রমে জলদস্যুবৃত্তি করে। জলদস্যূ আত্মসমর্পন অনুষ্ঠানে র্যা
র ৮ এর অধিনায়ক উইং কমান্ডার হাসান ইমন আল রাজীব এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি
হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী
আসাদুজ্জামান খান কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন র্যা বের মহাপরিচালক
বেনজীর আহমেদ-বিপিএম (বার)।

No comments:
Post a Comment